Logo
Logo
×
   

খেলা

আয়ের দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় রিয়াল মাদ্রিদ

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

আয়ের দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় রিয়াল মাদ্রিদ

আর্থিক শক্তিমত্তার দিক থেকে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাবটির বার্ষিক পরিচালন আয় ১.২২১ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১.২ বিলিয়ন ইউরোর বেশি আয় করার ইতিহাস গড়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। এই আয়ের হিসাবে খেলোয়াড় বিক্রির অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, আগের মৌসুমের তুলনায় রিয়ালের আয় বেড়েছে ৩.১ শতাংশ। একই সময়ে ডেলয়েট ফুটবল মানি লিগের তালিকায়ও ইউরোপের সর্বোচ্চ আয় করা ক্লাব হিসেবে শীর্ষে রয়েছে রিয়াল। তাদের পরেই অবস্থান করছে বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি এবং লিভারপুল।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাবটির বর্তমান আর্থিক সাফল্যের বড় ভিত্তি মাঠের পারফরম্যান্স নয়; বরং স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক ব্যবহার, বিপণন কার্যক্রম এবং স্পনসরশিপ থেকে আসা রাজস্ব। এসব খাত থেকেই এখন রিয়ালের আয়ের সিংহভাগ আসছে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন শুরু হওয়ার আগে ক্লাবটির বার্ষিক আয় ছিল ৭৫৭ মিলিয়ন ইউরো। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.২২১ বিলিয়ন ইউরোতে, যা প্রায় ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। অতিরিক্ত এই আয়ের ৯৩ শতাংশই এসেছে ক্লাবের নিজস্ব বাণিজ্যিক উৎস থেকে।

স্টেডিয়াম সংস্কারের সুফলও স্পষ্টভাবে মিলেছে। বার্নাব্যু থেকে আয় ১০৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬৩ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিপণন ও স্পনসরশিপ থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৫৩৯ মিলিয়ন ইউরো, যা আগের তুলনায় ৮২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ।

চলতি মৌসুমে স্টেডিয়াম-ভিত্তিক আয় আরও ১১ শতাংশ এবং বিপণন খাতের আয় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লাবের দাবি, সংস্কার করা বার্নাব্যু, নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার এবং স্পনসরশিপ চুক্তিই এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।

বার্নাব্যুর পুনর্নির্মাণে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১.৪০৮ বিলিয়ন ইউরো এবং প্রকল্পটি এখন শেষ পর্যায়ে। ক্লাব জানিয়েছে, আধুনিকায়নের পর স্টেডিয়ামটি আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আয় করছে।

আর্থিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খেলোয়াড়দের বেতন ও চুক্তি-সংক্রান্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে রিয়াল। স্কোয়াড পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে ৬১৮ মিলিয়ন ইউরো, যা মোট আয়ের ৪৬ শতাংশ এবং ক্লাবের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সীমার নিচে রয়েছে।

গত মৌসুমে খেলোয়াড় কেনার পেছনে রিয়ালের ব্যয় ছিল ১৬১ মিলিয়ন ইউরো। পাশাপাশি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে আরও ১৯২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছে ক্লাবটি। বর্তমানে তাদের নিট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ মিলিয়ন ইউরো, হাতে রয়েছে ৮৩ মিলিয়ন ইউরো নগদ অর্থ। স্টেডিয়াম নির্মাণ-সংক্রান্ত ঋণ বাদ দিলে ক্লাবটির নিট ঋণের পরিমাণ মাত্র ৯ মিলিয়ন ইউরো।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .