চাপে সৌদি, ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম প্রকল্প স্থগিত
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরব চুপচাপ একটি বড় স্টেডিয়ামের কাজ থামিয়ে দিয়েছে। এটি ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য বানানোর কথা ছিল। খরচ ধরা হয়েছিল ২.৫ বিলিয়ন ডলার। দেশটির বড় প্রকল্প নিওমে দেরি হচ্ছে। এ কারণে আরও কিছু বড় পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে। নির্মাণ খাতের তথ্যদাতা প্ল্যাটফর্ম মিড প্রজেক্টস প্রকল্পটিকে ‘স্থগিত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কবে কাজ আবার শুরু হবে, তার কোনো সময় বলা হয়নি।
স্টেডিয়ামটি হতো সৌদির বিশ্বকাপ পরিকল্পনার সবচেয়ে আধুনিক ভেন্যুগুলোর একটি। এটি বানানোর কথা ছিল ভূমি থেকে ৩৫০ মিটার ওপরে। জায়গা ছিল ১৬০ কিলোমিটার লম্বা নিওম প্রকল্পের ভেতরে।
২০২৪ সালে সৌদি আরব ২০৩৪ বিশ্বকাপের ভেন্যুর পরিকল্পনা প্রকাশ করে। পাঁচটি শহরে ১৫টি ভেন্যু রাখার প্রস্তাব ছিল। নিওমের স্টেডিয়াম ছিল সেগুলোর একটি। মিড তখন জানিয়েছিল, এখানে ৪৬ হাজার দর্শক বসতে পারবেন। স্টেডিয়ামটি ‘দ্য লাইন’-এর ভেতরে বানানোর কথা ছিল।
ফিফা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবকে ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক বেছে নেয়। এই আসরে খেলবে ৪৮টি দল। একটি মাত্র দেশে এত বড় আসর আগে হয়নি।
নতুন খবরে ‘দ্য লাইন’ নিয়ে প্রশ্ন বেড়েছে। এটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা প্রকল্প। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশটি অনেক ভবিষ্যৎমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
নিওমের মালিক পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা পিআইএফ। এর গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ান এপ্রিলে একটি কথা বলেন। তিনি জানান, ২০৩০ সালের আগে ‘দ্য লাইন’ আর অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। তবে কোনো প্রকল্প বাতিল হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করেননি।
সৌদি আরবের ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজক কর্তৃপক্ষও কথা বলেছে। তারা জানিয়েছে, ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ নির্মাণকাজ আগে থেকেই চলছে। এর প্রমাণ হিসেবে তারা অন্য স্টেডিয়ামগুলোর ছবিও দিয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ
কয়েক মাস আগে আরেকটি বড় প্রকল্পের কাজও থেমেছিল। সেটি রিয়াদের নিউ মুরাব্বা এলাকার ‘দ্য মুকাব’। এটি ঘনক আকৃতির একটি বিশাল আকাশচুম্বী ভবন। এটি ছিল ওই এলাকার মূল আকর্ষণ।
খবরে বলা হয়েছে, পিআইএফ এখন কিছু ব্যয়বহুল বড় প্রকল্প থেকে সরে আসছে। এর বদলে তারা এমন বিনিয়োগে যাচ্ছে, যেখান থেকে দ্রুত আয় আসবে।
নিওমের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন সৌদি আরব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চাপে আছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে দেশটির জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদির অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।
শনিবার হুথিরা রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে হামলার দায় স্বীকার করে। এক প্রত্যক্ষদর্শী ধোঁয়া ও আগুন দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও আরামকো তখনই ঘটনাটি নিশ্চিত করেনি।
তেলের কাজ কমে যাওয়ায় সৌদি অর্থমন্ত্রণালয় এ বছর বাজেট ঘাটতির আশঙ্কা করছে। প্রকৃত জিডিপি ৩.৬ শতাংশ কমতে পারে বলেও তারা অনুমান করেছে।
মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে ২০৩৪ বিশ্বকাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাঁর অর্থনীতি ও বিশ্বে প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনার একটি বড় স্তম্ভ। ফিফা সৌদির বিশ্বকাপ প্রস্তাবকে ‘একদম অবিশ্বাস্য’ বলেছিল।
