সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
৪৫ মিনিট শেষ। আর মাত্র ৪৫ মিনিট বাকি। তারপরই মেসির আকাশি-সাদাকে রাঙানোর দায়িত্ব শেষ।
বেনিনের বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে মেসি গোল পাননি। গোল পায়নি আর্জেন্টিনাও। তবে এই ম্যাচ গোল-অ্যাসিস্ট-কার্ডের মতো বৈষয়িক জিনিসপত্র নিয়ে আলোচনার ম্যাচই নয়। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে অবসরে যাচ্ছেন মেসি, এর চেয়ে বড় উপলক্ষ বা আলোচ্য বিষয় কি আর আছে?
হয়তো আছে, মেসি নিজেই আছেন যে! আর্জেন্টিনায় যতদিন খেলবেন, ততদিন মেসিই সব। তার প্রমাণ আজও দিচ্ছেন তিনি। প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি বল ছুঁয়েছেন। সবচেয়ে বেশি শটও নিয়েছেন। প্রথম ৪৫ মিনিটের সবচেয়ে বড় সুযোগটাও এসেছিল তার পা থেকেই!
ম্যাচের আগে কতশত আয়োজন! তার শহর রোজারিও তার সম্মানে বিশাল এক জার্সি উন্মোচন করেছিল গেল দিন। এরপর রিভার প্লেট তাকে সদস্য বানিয়ে নিল। ভক্তসমর্থক তো বটেই, সাবেক বর্তমান সতীর্থদের শুভেচ্ছাবার্তা তো আসছিল, আসছে এখনও।
মাঠে ঢোকার পথে তার প্রটোকলকে ঘিরে দর্শকের ভিড় প্রত্যাশিতই ছিল। সেটা হলোও। মাঠে এসে যখন প্রথম ওয়ার্মআপ করতে নামলেন, তখন সবাই সোল্লাসে বরণ করে নিলেন তাকে। তিনিও হাত তুলে অভিবাদন জানালেন দর্শকদের।
এই ম্যাচে মেসির পুরো একান্নবর্তী পরিবার মাঠে থাকবে। তা জানা ছিল আগে থেকে। ম্যাচ শুরুর পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ভিআইপি গ্যালারিতে তাদের দেখাও মিলল।
নেই শুধু একজন। মেসির কোনো ম্যাচের আগে গ্যালারিতে যার উপস্থিতি নজর কাড়ত, তিনি হলেন মেসির বাবা। তিনি আজ নেই। মাস দুয়েক আগে গত হয়েছেন। চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
ম্যাচ শুরুর আগে মাঠকর্মীদের হাতে দেখা গেল সুবিশাল এক জার্সি। সেখানে ছিল গ্রাসিয়াস শব্দটি, বাংলায় যার অর্থ- ধন্যবাদ। শেষ ম্যাচের জাতীয় সংগীতেও ছিল খানিকটা বিশেষত্ব, আর্জেন্টাইন সংগীত শিল্পী ফাভিও সান্তানা আজ গেয়েছেন এই গান। তার ঠিক আগে মাসকট হিসেবে নিজেদের ছেলেদের নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। তার সব সতীর্থও নিজেদের সন্তানদেরকে মেসির ম্যাচের অংশ বানিয়েছেন একইভাবে।
কিক অফের বাঁশি যখন বাজল, তার পর থেকে পুরো আর্জেন্টিনা দলের যেন একটাই লক্ষ্য ছিল, মেসিকে দিয়ে গোল করানো। বল পেলেই সবাই মেসিকে খুঁজেছেন, স্কালোনি-যুগে অন্তত এমন দৃশ্য খুব বেশি দেখা যায়নি। সে দৃশ্য আজ দেখা গেল। লাউতারো মার্তিনেজ প্রায় সফল হয়েও গিয়েছিলেন, প্রতি আক্রমণে উঠে এসে তার বাড়ানো বল মেসির একটু পেছনে পড়েছিল। মিশর ম্যাচের গোলটার মতো করে বলটা আয়ত্বেও নিয়েছিলেন, কিন্তু শটটা সেদিনের মতো করে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ফলে আর্জেন্টিনাও গোল পায়নি।
এদিকে বেনিনও ছেড়ে কথা বলেনি। মেসির বিদায়ের ম্যাচে গোল করে তাকেই চমকে দেওয়ার লোভ তাদের কেউই সংবরণ করতে পারেননি। প্রতি আক্রমণে অন্তত তিনবার উঠে এসেছে দলটি। তবে এমি মার্তিনেজের দক্ষতায় প্রতি বারই সেই চমক থেকে 'বঞ্চিত' হয়েছেন মনুমেন্তালে হাজির সমর্থকরা। তাতে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয়েছে গোলহীনভাবে।
