মরিনিওর যে ৩ ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ কুপোকাত বার্সা
Advertisement
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লোকে বলে এল ক্লাসিকো নাকি অত হিসাব-নিকাশের ধার ধারে না। গেল রাতের ম্যাচটা তার দারুণ একটা প্রমাণ দিয়ে গেল।
এই ম্যাচ রিয়াল মাদ্রিদ জিতবে, তা বোধ হয় পাঁড় রিয়াল-ভক্তও ভাবেননি। কিন্তু শেষমেশ হলো সে ‘অভাবনীয়’ ঘটনাটাই। লস ব্ল্যাঙ্কোসরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছে ন্যু ক্যাম্পে। তুলে নিয়েছে ২-১ গোলের দুর্দান্ত এক জয়।
আর এই দাপুটে জয়ের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন দলটির কোচ জোসে মরিনিও। ম্যাচের আগে আর ম্যাচ চলাকালে তিনি বড় ৩টি সিদ্ধান্ত নেন। দিনশেষে সেগুলোই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে গেল। খেলার চেহারাটাই বদলে দিল রীতিমতো।
মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ১: বের্নার্দো সিলভা
এই ম্যাচে কোচ মরিনিও ফিরে গিয়েছিলেন তার ৪ জনের মিডফিল্ডের কৌশলে। যেখানে ডাবল পিভোটে রক্ষণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে বের্নার্দো সিলভা। এই এক সিদ্ধান্তই রিয়ালের মাঝমাঠে ভারসাম্য নিয়ে এসেছে।
রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকে সিলভাকে কোচ মরিনিও শুরুর একাদশে রেখেছেন মোটে ৪ বার। তাও সেসব ম্যাচে তিনি খেলেছেন আরও বেশি সেন্ট্রাল ভূমিকায়। গেল রাতের মতো রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেটাই গছিয়ে দেওয়া হয় তার কাঁধে, সে ভূমিকাতে তিনি শুধু উতরেই যাননি, দলকেও তরিয়ে দিয়েছেন দারুণভাবে। সিলভার মতো একজন টেকনিক্যাল খেলোয়াড়, যিনি আবার রক্ষণকাজটাও সারছেন দুর্দান্তভাবে, এমন একজনের উপস্থিতি দলের ওপরের দিকের খেলোয়াড়দের নির্ভার করে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদ বল পায়ে বার্সার বিপক্ষে আরও বেশি সৃজনশীলতা দেখাতে পেরেছে, পেছনে তিনি ছিলেন বলেই তো।
মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ২: প্রেস রেজিস্ট্যান্সি
হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনা প্রেসিং ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। সেই বার্সার প্রেসকে হারানোর কার্যকর উপায় এই রাতে বের করে দেখিয়েছেন মরিনিও। রিয়ালের খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে নিজেদের দিকে টেনে এনেছে, এরপর বল নিয়ে এগিয়েছে সেই জায়গা দিয়ে, যেখানে বার্সেলোনার রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল।
এই বল সার্কুলেশনই বার্সার বিপক্ষে দারুণ কাজে লাগে। কারণ কাতালানরা রক্ষণের পেছনে অনেক বেশি জায়গা রেখে এসেছে সবসময়। এমবাপ্পে ছাড়াও আরও একজন সবসময় লেট রান নিয়েছেন রক্ষণের পেছনের ফাঁকা জায়গায়। ফলে বার্সার রক্ষণকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ফাঁকা মনে হয়েছে গেল রাতে। প্রতি আক্রমণে অন্তত ৪ বার রিয়াল সংখ্যাগত আধিক্য নিয়ে ঢুকেছে বার্সার বিপদসীমায়।
মাস্টারস্ট্রোক নাম্বার ৩: এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা
মরিনিওর শুরুর পরিকল্পনা যেমন ফল এনে দিয়েছে, তেমনি বেঞ্চ থেকে তার পরিবর্তনও ছিল সমান জরুরি। ফ্লিক ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে মাঠে এনে মাঝমাঠের দখল নিতে চেয়েছিলেন আরও ভালোভাবে। ফলে একটা সময় মনে হচ্ছিল অন্তত একটা পয়েন্ট নিয়ে বার্সা মাঠ ছাড়ছেই।
ঠিক তখনই নিজের দ্বিতীয় চালটা দেন মরিনিও। তিনি নামান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে। তাকে ব্যবহার করা হয়েছে আরও একটু ওয়াইড এরিয়াতে। জয়সূচক গোলে ভূমিকাটা তিনি রেখেছেন ওই ওয়াইড এরিয়াতেই। বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে গেছেন বার্সা রক্ষণে। সেখানে প্রায় পুরো ম্যাচ নিখুঁত খেলে চলা পাউ কুবারসিকে ধোঁকা দেন দারুণ এক মুভে, শেষমেশ তার বাড়ানো বলটা অনায়াসেই বার্সার জালে জড়ান এমবাপ্পে। কামাভিঙ্গার অবদান পেয়ে যায় তার যথার্থ পুরস্কার।

