বার্সার সুহৃদ থেকে যেভাবে ‘শত্রু’ বনে গেলেন মরিনিও
Advertisement
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সেদিন সবে সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সংবাদ সম্মেলনে এলেন রিয়ালের কোচ জোসে মরিনিও। তার কাছে ধেয়ে গেল একটা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ প্রশ্ন। রিয়াল বেতিস অভিযোগ তুলেছিল, রেফারিং বেশ সুবিধা করে দিয়েছে বার্সেলোনার; মরিনিওকে সে প্রসঙ্গেই প্রশ্নটা করা হয়েছিল। জবাবে তিনি যা বললেন, তা বার্সার পিত্তি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি বললেন, ‘এ আর এমন কী!’
সেভিয়ার বিপক্ষে ওই ম্যাচ শেষে নেগ্রেইরা ইস্যুতে বার্সেলোনাকে খোঁচা দিয়েছিলেন তিনি, সেটা পরিষ্কার। তার আগে আরও বহুবার বার্সাকে বহু ইস্যুতে খোঁচা দিয়েছেন। কখনো প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। একবার তো আক্ষরিক অর্থে বার্সার সহকারী কোচ তিতো ভিলানোভার চোখে আঙুল দিয়ে গুঁতোও দিয়ে বসেছিলেন! প্রত্যেকটা ঘটনা বার্সার সঙ্গে তার আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্কটাকে আরও একটু তিতকুটে করে তুলেছে।
তবে গেল শতাব্দির শেষদিকেও বিষয়টা এমন তিতকুটে ছিল না। বরং বেশ মধুরই ছিল। মরিনিওর কোচিংয়ের হাতেখড়ি যে হয়েছিল এই ক্লাবে। সে সময় বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘জোসে’। ড্রেসিংরুমে বহু জনের তিনি ছিলেন হরিহর আত্মা!
গল্পের শুরুটা ১৯৯৬ সালে। তখন ববি রবসনের সহকারী হিসেবে বার্সেলোনায় যোগ দেন মরিনিও। তখন তার পরিচয় ছিল অনুবাদক ও সহকারী কোচ। কিন্তু দায়িত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে খুব দ্রুতই নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রবসনের বক্তব্য অনুবাদের পাশাপাশি নিজের মতামতও যোগ করতেন। প্রয়োজনে গুরুকে রক্ষা করতে সাংবাদিকদের সঙ্গেও তর্কে জড়াতেন সে সময়ে। শুধু কি সাংবাদিক? একবার তো অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের তৎকালীন কোচ লুইজ ফার্নান্দেজের সঙ্গেও তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চোখ কপালে তুলে দিয়েছিল অনেকের!
বার্সেলোনায় মরিনিওর ঘনিষ্ঠতা ছিল রোনালদো ও পেপ গার্দিওলার মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে। গার্দিওলার সঙ্গে কৌশল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করতেন তিনি। তবে সেই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বলতে চাননি গার্দিওলা; বরং একে দেখেছিলেন কাজের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা বোঝাপড়া হিসেবে।
ববি রবসনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিলেন মরিনিও। পরে নিজেই স্বীকার করেন, সেরা কোচ হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন, তা তিনি রবসনের কাছেই বুঝেছেন। এতটাই যে, কোচ রবসন ১৯৯৭ সালের কোপা দেল রেতে দল সামলানোর দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন তার হাতে, তিনি তার আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন বার্সেলোনাকে জিতিয়ে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় তার অবস্থান। বার্সেলোনা ছেড়ে অন্য ক্লাবে গিয়ে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকেন তিনি। যে বার্সেলোনায় শুরু, পরিণত সময়ে সেই কাতালুনিয়ায় ফেরার একটা ইচ্ছা ছিল তার।
ঘটনাটা ২০০৮ সালের। সে বছর বার্সেলোনা নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছে। সেখানে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন মরিনিও। প্রাথমিক পর্যায়ের আলাপও হয়ে গিয়েছিল দুই পক্ষের। কিন্তু শেষমেশ ইয়োহান ক্রুইফের হস্তক্ষেপে তাকে আর কোচ করেনি বার্সা।
কাতালানদের সঙ্গে তিক্ততার শুরু সম্ভবত সেখানেই। এক বছর পরই ইন্টার মিলানকে নিয়ে বার্সাকে বিদায় করলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে, ন্যু ক্যাম্পে তার সেই আইকনিক উদযাপনে যেন খানিকটা মিশে ছিল ব্যক্তিগত ক্ষোভও।
এরপর যখন ২০১০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে এলেন সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে, তখন আর পায় কে! তখন পেপ গার্দিওলার বার্সা রীতিমতো উড়ছে ইউরোপে, আর মাদ্রিদ রীতিমতো কোণঠাসা। ঠিক সে সময় মরিনিওর দায়িত্ব পড়ে রিয়ালকে সামলানোর, বার্সাকে থামানোর। সে কাজটা তিনি ভালোভাবেই সামলেছেন।
মাঠের বাইরে বার্সেলোনার সঙ্গে তার সম্পর্কটা ছিল প্রায় এক যুগ আগের ঠিক উল্টো। যে ক্লাবের অন্দরমহলে আপনজন ছিলেন মরিনিও, একের পর এক তিক্ত ঘটনার পর সেখানেই পরে তিনি হয়ে ওঠেন রীতিমতো চোখের বালি।
সে কাজটা তিনি আবারও করতে ন্যু ক্যাম্পে হাজির হচ্ছেন আজ রাতে। পরিস্থিতিটা আগের মতোই অনেকটা। তবে সে পরিস্থিতিটা বদলে দেওয়ার কাজটা মরিনিও ছাড়া আর কে ভালো পারবেন?

