রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শাস্তির মুখে লা লিগা সভাপতি
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে বিপাকে পড়েছেন লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। রিয়াল মাদ্রিদের নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলের প্রচারকৌশলকে নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তার মন্তব্যের বৈধতা খতিয়ে দেখতে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ পাঠিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি)। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন লা লিগা প্রধান।
স্পেনের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতায় রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জানিয়ে আসছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলেও বিভিন্ন ম্যাচে রেফারিদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়ালের প্রচারপদ্ধতি নিয়ে মন্তব্য করেন ৬৪ বছর বয়সি তেবাস।
তিনি লেখেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের নিজস্ব একদল মুখপাত্র রয়েছে এবং ক্লাবটি নিজেই এর নেতৃত্ব দেয়। তাদের কৌশল সবসময় একই—সুবিধাজনক পদক্ষেপ বাছা, অপমানের পুনরাবৃত্তি, সন্দেহ তৈরি করা ও শত্রুদের নাম প্রকাশ করা। এটি গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচার কৌশলের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
তেবাসের এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগা সভাপতির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
বিষয়টি এবার গড়িয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায়। তেবাসের মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা ও শালীনতা রক্ষাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ জানিয়েছে সিএসডি। সংস্থাটির মতে, স্প্যানিশ ক্রীড়া আইন ১০/১৯৯০-এর ৭৬.৪.বি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার এই আচরণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে তেবাসকে সতর্কবার্তা, অর্থদণ্ড কিংবা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি দেওয়া হতে পারে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন লা লিগা সভাপতি। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদের প্রচারকৌশল ব্যাখ্যা করতেই গোয়েবলসের উদাহরণ টেনেছিলেন। ক্লাবটির সমর্থক কিংবা তাদের মূল্যবোধকে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়ে সিএসডির অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তেবাস। তার অভিযোগ, রেফারিং ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা কিংবা লিগে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব থেকেছে।
এ প্রসঙ্গে তেবাস লেখেন, ‘রিয়ালের অফিসিয়াল টিভি যখন রেফারিং ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে এবং লিগ চুরি হওয়ার অভিযোগ তোলে, তখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা সিএসডি চুপ থাকে কেন? প্রতিযোগিতাকে জালিয়াতি বলা কি খেলাধুলার শালীনতার ওপর আঘাত নয়? এতে কি ক্লাব, রেফারি এবং লাখ লাখ সমর্থকের ক্ষতি হচ্ছে না? নাকি এসব মূল্যবোধের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার প্রয়োজন পড়ে কেবল তখনই, যখন কেউ এমন আক্রমণের জবাব দেয়?’
তেবাস ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে চলমান এই বিরোধ স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এখন সবার নজর স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের তদন্তে তেবাসের মন্তব্য আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে প্রমাণিত হয় কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

