ট্রাম্পের সঙ্গে ‘অতি সখ্যতা’ কি ইনফান্তিনোর জন্য বিপদ ডেকে আনবে?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা’ এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সমঝোতার অভিযোগে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এর পেছনে রয়েছে বেশ বড় কারণ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে ফৌজদারি অভিযোগের মুখেও পড়তে পারেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধান।
গত ২৬ জুলাই হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইনফান্তিনো ও ফিফার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে ইনফান্তিনো ও ফিফা দীর্ঘদিন ধরে ‘ধারাবাহিক তৎপরতা’ চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি শুনানিতে হাজির হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল ফিফা সভাপতিকে।
তবে তদন্তে ফিফার সাড়া সন্তোষজনক ছিল না বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেন ডেমোক্র্যাটদের এক মুখপাত্র। তার ভাষায়, সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া জবাব ‘একেবারেই অপ্রতুল’। সে সময় প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের বাধ্যতামূলক সমন জারির ক্ষমতা ছিল না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় এবার সেই ক্ষমতা তাদের হাতে এসেছে। ফলে ইনফান্তিনোকে শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করতে পারবেন তারা। সমন অমান্য করে হাজির না হলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং ফৌজদারি পদক্ষেপের পথও খুলে যেতে পারে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ডেমোক্র্যাটদের ওই মুখপাত্র অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প পরিবারের হাতে ফিফা ঠিক কত অর্থ তুলে দিয়েছে, তা প্রমাণের কোনো নথি এখনও তারা হস্তান্তর করেনি। এ ছাড়া ট্রাম্পকে দেওয়া ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ এবং কুশনার-ইনফান্তিনোর মধ্যকার গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বিশ্বকাপ বিক্রির পাঁয়তারা কীভাবে শুরু হয়েছিল- সেসব মূল প্রশ্নেরও কোনো জবাব মেলেনি।
তদন্ত শুরুর দুই দিন পর, ২৮ জুলাই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানায়, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছেন ইনফান্তিনো।
একই দিন ফিফাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এফএফইকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের নেতৃত্বে ছিল ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ তিনটি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল উয়েফা। সমালোচনার মুখে ১ আগস্ট প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইনফান্তিনো।
পরিকল্পনা বাতিল হলেও ফিফা সভাপতির ওপর আস্থা পুরোপুরি ফিরে পায়নি উয়েফা। আগামী সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করানোর ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি। যদিও প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে আফ্রিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে ইনফান্তিনোর সমর্থন এখনো শক্তিশালী। তবে মানবাধিকার ও ক্রীড়া অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘ফেয়ারস্কয়ার’ সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বৈধতাকে যেন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হয়।
ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ সভাপতি থাকতে পারেন। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ফিফা কাউন্সিল এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদকে এই হিসাবের মধ্যে ধরা হবে না।
এই ব্যাখ্যার ফলে গঠনতন্ত্রের মেয়াদসংক্রান্ত বিধিনিষেধের মধ্যেও ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে ইনফান্তিনোর সামনে।

