মোদির শহরে বিশ্বকাপের গদিতে কে?
Advertisement
জ্যোতির্ময় মণ্ডল, আহমেদাবাদ থেকে
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০১:০০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্টেডিয়ামের পাশেই বড় রাস্তা। জ্যাম কমাতে চলছে ফ্লাইওভারের কাজ। শুক্রবার অনেক রাত পর্যন্ত রাস্তার দুইধারে দীর্ঘ লাইনে জার্সি বিক্রির হিড়িক চলল। আগামীকাল যে এই এলাকায় কেউই ভারতের জার্সি ছাড়া থাকবেন না সেটা নিশ্চিত।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদিতে যে একটি আসন ফাঁকা থাকবে না সেটা বুঝতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না। মনে করা হচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপই খেলাধুলার সবচেয়ে দীর্ঘতম টুর্নামেন্ট! শুরু হয়েছিল ৫ অক্টোবর এই স্টেডিয়ামেই। আগামীকাল স্বপ্নের ফাইনালে সমাপ্তিও সেখানে। ভারতের সব শহর যেন মিশে যাবে মোদির আহমেদাবাদে। আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা ভারতের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।
যারা আগে থেকে হোটেলে বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন সবই প্রায় বাদ হয়ে গেছে। চার হাজার টাকার হোটেল ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ১৬ হাজারে। টিকিট তো নাগালের বাইরেই।
এমনকি ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে আহমেদাবাদমুখী সব ধরনের যানবাহনের টিকিটের মূল্যও আকাশচুম্বী। স্বাগতিক ভারত ফাইনালে উঠলে যে এমনটা হবে সেটা আগে থেকেই অনুমিত ছিল। সেটাই হচ্ছে।
পুরো টুর্নামেন্টে না হারা ভারত সেমিফাইনালেও দাপুটে জয় পেয়ে মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদের টিকিট কাটে। দশ ম্যাচে তাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারেনি কোনো দল। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর অস্ট্রেলিয়া নিজেদের জাত চিনিয়েছে। বড় টুর্নামেন্টে যে তারা সহজে কাউকে ছাড় দেবে না সেটা নতুন করে বলার নেই।
কলকাতায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে তারা এসেছে আহমেদাবাদে। দু’দলই ফাইনালের শহরে ঘাঁটি গেড়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে। ভারত দশ বছর ধরে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি। শেষ বিশ্বকাপ জয়ও ১২ বছর আগে। সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড, র্যাংকিংয়ে যে দল থাকে শীর্ষে তাদের আর কত অপেক্ষা করতে হবে! ২০০৩ সালে তো এই অস্ট্রেলিয়ার কাছেই শিরোপা হারিয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার-সৌরভ গাঙ্গুলী-রাহুল দ্রাবিড়রা।
সৌরভ না থাকলেও সেই রাহুল তো এই দলের গুরু। শচীন বিশেষ দূত হয়ে রয়েছেন সব মাঠেই। তাহলে কী এবার বদলা নেওয়ার সময়? সমর্থকরা অবশ্য আগে থেকেই মিছিল বের করে বলতে শুরু করেছেন বদলা চাই, বদলা চাই! নাকি এবার ভারতের মাটিতেই অস্ট্রেলিয়া দেখাবে ক্রিকেট তাদের অস্থিমজ্জায় ঢোকানো।
তবে দৈত্যাকৃতির স্টেডিয়ামে কি জাদু আছে তা নিয়েই চারিদিকে আলোচনা। কি নেই এখানে। দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩২ হাজার। শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। রাতে স্টেডিয়ামের আলোর রশ্মি চলে যায় বহুদূর পর্যন্ত।
১৯৮২ সালে প্রথম তৈরি হলেও ২০১৫ সালে নতুন রূপ দেওয়া হয়। সবরমতী নদীর তীরে ৬৩ একর জমিতে গড়ে ওঠা দৈত্যাকার এই স্টেডিয়াম বিশাল এক বিস্ময়। ৩৮ মাস সময় ধরে চলে কাজ, ৩৬০০ শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রম, অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-চায়নার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামে নামকরণ হয়।
ভারত এই মাঠে খেলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া খেলেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দু’দলই জয় পেয়েছে। এখন শেষ হিসাব মিলানোর অপেক্ষায় দু’দল।
