একদিনের ব্যবধানে ৫০ হাজার কোটি ডলার হারাল গুগল
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
গুগলের বর্তমান সিইও সুন্দর পিচাই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পেছনে মাত্রাতিরিক্ত খরচ করা এবং এর ফলে মূল ব্যবসায়ে বড় ধাক্কা লাগার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বাজারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এআই প্রযুক্তির কারণে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বাজার মূল্য একদিনেই ৫০ হাজার কোটি ডলারের বেশি (প্রায় ৩৭৪ বিলিয়ন পাউন্ড) কমে গেছে।
গুগলের প্রধান ব্যবসায় কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের নতুন ‘এআই মোড’-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন মানুষের মতো সরাসরি কথা বলে প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন। ফলে প্রথাগত সার্চ পেজের পাশে যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখাতো, সেখান থেকে আয় আগের মতো আর আসছে না।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে সাময়িক ক্ষতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এআই-নির্ভর সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে বেশ আশাবাদী তারা।
সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যালফাবেটের ত্রৈমাসিক হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট আয় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু বিজ্ঞাপনে আয় আশানুরূপ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর ফলে কোম্পানির শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে যায়।
দিনশেষে তাদের মোট বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩.৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৩.৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা টিকিয়ে রেখে এআই-এর মতো বিশাল খাতে অর্থায়ন করা কোম্পানিগুলোর জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যামাজনের বিশাল খরচ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গুগলের পাশাপাশি মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনও এআই খাতে খরচ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে অতিরিক্ত খরচের কারণে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ কমে গেছে।
অ্যামাজনের বিক্রি ১১ শতাংশ বেড়ে ২০১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও তাদের নগদ অর্থের প্রবাহে (ক্যাশ ফ্লো) ৪২ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ তারা যা আয় করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ করে ফেলছে।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, ক্লাউড সেবা, খুচরা বিক্রি এবং নিজস্ব চিপ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। খরচ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এই বিনিয়োগ অ্যামাজনের চেহারা চিরতরে বদলে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাইক্রোসফটের পরিস্থিতি
ওয়াল স্ট্রিটে মাইক্রোসফটের শেয়ারের পতন ছিল বেশ কম (১ শতাংশের নিচে)। ওপেনএআই-এর বড় এই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি এআই খাতে তুলনামূলক কম খরচ করার পাশাপাশি খরচ কমাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে।
এই ত্রৈমাসিকে তাদের আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘কোপাইলট’-এর ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির এই নতুন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন কোম্পানি এআই থেকে সত্যিকার অর্থে লাভবান হতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

