অসহায় নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণ
দক্ষ চালক গড়ে তুলছে পাথওয়ে ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল
Advertisement
ডেমরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘নিরাপদে সড়কে আমরা সবাই’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষ চালক গড়ে তুলতে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে ‘পাথওয়ে’। চালক, যাত্রী ও পথচারী ট্রাফিক আইন মেনে চলি, দুর্ঘটনা রোধ করি এ মূল মন্ত্রই সংগঠনটির।
সড়কে নানা দুর্ঘটনা প্রতিরোধসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ‘পাথওয়ে অটোমোবাইল ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল নামের’ এ সংগঠন। এছাড়াও দক্ষ চালক গড়ে তুলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে বিভিন্ন দিবসে চালক-পথচারীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে পাথওয়ে।
জানা যায়, ‘পাথওয়ে’ বাংলাদেশের একটি স্বেচ্ছাসেবী এনজিও। হতদরিদ্রের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। আর ‘পাথওয়ে অটোমোবাইল ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল’ পাথওয়ের একটি অঙ্গসংগঠন, যা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও সুদক্ষ চালক গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রথমে ৫৫ শিক্ষানবিস ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে গত বছর ১ জানুয়ারি ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। মিরপুর বিআরটিএ’র পেছনে ৪৮/৩ কাফরুল (ঢাকা-১২১৬) এলাকার বিআরটিসি স্টাফ কোয়ার্টার মার্কেট সংলগ্নে প্রতিষ্ঠা করা হয় ট্রেনিং স্কুলটির। এখানে পর্যায়ক্রমে ট্রেনিং নিচ্ছেন ৩৭৫ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ জন এডিশনাল এসপি রয়েছেন। রয়েছেন পুলিশের ১ জন মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর। এখানে ২৬ শিক্ষার্থীকে ফ্রি ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। আর ট্রেনিংয়ের জন্য রয়েছে ৪টি প্রাইভেট কার। এ স্কুল থেকে ট্রেনিং নিয়ে বর্তমানে বিদেশে ৫ জন চালক কর্মরত আছেন। এখানে চারজন ইন্সট্রাক্টরসহ ৫ জন অফিস স্টাফ রয়েছেন।
পাথওয়ে দুস্থ অসহায় ও তৃতীয় লিঙ্গদের মাঝে ফ্রি ড্রাইভিং ট্রেনিংসহ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি প্রদান করে। পাশাপাশি সংস্থাটির আরও একটি উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনার ফসল ‘পাইলট কেয়ার’ নামে একটি অ্যাপসভিত্তিক কার্যক্রম, যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
সিফাত তাহজিবা ও আফসানা বেগম নামে পাথওয়ে’র দুই শিক্ষার্থী জানায়, আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনিং নিতে পারছি। আর ‘পাইলট কেয়ার’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ শহরে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বেকার শিক্ষিত যুবক-তরুণী, গার্মেন্টস কর্মীদের ট্রেনিং দিচ্ছে। পরবর্তীতে পাথওয়ে’র নিয়ন্ত্রণেই দেশের সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন কর্পোরেটসহ ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিংপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও রমজান মাসে প্রায় প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন বসতি, টার্মিনাল এলাকাগুলোতে হতদরিদ্র, শিক্ষার্থী, চালক ও পথচারীসহ অন্তত ৭শ’ রোজাদারের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে পাথওয়ে।
পাথওয়ে’র নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন যুগান্তরকে বলেন, পাথওয়ে’র মূল লক্ষ্য হচ্ছে পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত কর্মজীবী নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজের বুয়া পাঠানো হয়। একইভাবে দক্ষ চালক পাঠানোর ব্যবস্থা করছে পাথওয়ে। এ লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে ফ্রি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হয়। মো. শাহীন আরও বলেন, পাথওয়ের নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠানে কাজের ব্যবস্থা করা হয়। তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে গুরুত্ব সহকারে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
