তিতাস কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ নীরব
কদমতলীতে রাস্তা খুঁড়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ
Advertisement
যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে লালমিয়া সরদার সড়ক কেটে অবৈধভাবে গ্যাস পাইপলাইন বসাচ্ছে প্রভাবশালীরা। তীব্র গ্যাস সংকটের এই সময়ে অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে নজর নেই প্রশাসনের। সম্প্রতি তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর কদমতলীর হাজী লাল মিয়া সড়ক এলাকায় দিবালোকে অবৈধভাবে রাস্তা খুঁড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাড়ি প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ‘২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস’ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় দুই শতাধিক বাড়িতে এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সরেজমিন শনিবার দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী লাল মিয়া সরকার সড়কের প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে আড়াই থেকে পৌনে ৩ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সড়কের ৩-৪ ইঞ্চি নিচে পাইপলাইন স্থাপন করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাড়ি বাড়ি গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। অথচ গ্যাস আইন অনুযায়ী, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা তিতাসের টেকনিক্যাল টিম ছাড়া পাইপলাইন কাটা বা সংযোগ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
এতে একদিকে রাস্তা ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে যে কোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা গ্যাস বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িপ্রতি টাকা তুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রাস্তা খুঁড়ে তিতাস গ্যাস সংযোগ লাইন নেওয়া হচ্ছে। বাসিন্দারা বলেন, সবকিছু বিএনপি নেতা বাদল ভাই জানেন। তার নেতৃত্বেই গ্যাস সংযোগের কাজ চলছে।
লাইন নিতে কাকে টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, সবকিছু বাদল ভাই জানেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তার হোসেন উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনাদের কি কেউ ডেকেছে, আপনারা এখানে কেন আসছেন, এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা বন্ধ করতে তেড়ে যান, এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন, বিএনপির ওয়ার্ড সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ খোকা, মুরাদপুর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হাজী মো. আব্দুল হাইসহ এলাকার লোকজন তাকে থামান।
আবুল হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি অবৈধ লাইন নিয়েছে সেগুলোর তো নিউজ দেখলাম না, আমরা নেওয়ার সময় আপনাদের নজরে পড়ল। আপনাদের কে বলেছে, তার নাম দেন।
এদিকে একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জীবন আগে পরে অন্য কিছু। ৩-৪ ইঞ্চি পরিমাণ রাস্তার নিচে গ্যাস পাইপলাইন বসিয়ে যেভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, এতে ভারী যানবাহনের চাপে গ্যাস পাইপ ফেটে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু অসাধু লোক মোটা অঙ্কের মুনাফা পেতে এভাবে অবৈধ সংযোগ দিচ্ছে।
৫২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা বাদল মিয়া বলেন, আমাদের এ এলাকায় দীর্ঘ ৩-৪ বছর যাবৎ তিতাস গ্যাসের সরবরাহ নাই বললেই চলে। এতে চুলায় আগুন জ্বলে না। অথচ বছরের পর বছর আমরা গ্যাসের বিল দিচ্ছি। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এতে করে দুই দিকেই টাকা খরচ হচ্ছে। আবার কেউ লাকড়ি দিয়ে বাসার বারান্দায় ও ঘরে রান্না করছে। আমরা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করছি। বাড়ির মালিকদের নিকট সমন্বয় করে টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস রায়েরবাগ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রাস্তা কেটে অবৈধভাবে গ্যাস লাইন নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সিটি করপোরেশন ও তিতাস গ্যাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে এ অবৈধ সংযোগ তুলে নেওয়া হবে।
