চাঁদা তুলে জমি কিনলেন গ্রামবাসী
স্বপ্নের মাঠ পেল বাবুপুর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বাবুপুর গ্রামে খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য জমি কিনে উড়ানো হয়েছে জাতীয় পতাকা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রাম। গ্রামটিতে সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। সাড়ে ৩ হাজারের অধিক জনসংখ্যা। এদের বড় অংশ শিশু, কিশোর, যুবক। কিন্তু গ্রামে কোনো খেলার মাঠ নেই। তাই ক্রীড়াচর্চায় অসুবিধা হয়। এর আগে অনেকবার এ গ্রামের মানুষ মাঠের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার অন্যতম উদ্যোক্তা এ গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে এ গ্রামের ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরামর্শ করি। সবাই মিলে টাকা দিয়ে খেলার মাঠের জন্য একটি জমি কেনা যায় কি না। এ প্রস্তাবে উৎসাহ দেখান খোরশেদ আলম। পরে আমরা গ্রামের কয়েক বিত্তবান মানুষের সঙ্গে কথা বলি। তাদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাই। ৮ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা করি। সেখানে সবাই খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার পক্ষে মত দেন। সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
উদ্যোক্তাদের অন্যতম খোরশেদ আলম বলেন, আমি ও ইকবাল মাহমুদ ছাড়াও এ গ্রামের বিত্তশালীদের মধ্যে আজাহার শিকদার, সেলিম আল মামুন, মিজানুর রহমান, মজনু শিকদার, শফিকুল ইসলাম, শুভ প্রামাণিক বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গ্রামের সবার কাছেই জমি কেনার জন্য অর্থ সহায়তা চাওয়া হয়। গ্রামবাসী ২শ, ৫শ, ১ হাজার, ২ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দেন। পরে এই গ্রামের ইকবাল হোসেন সুজনের ৬০ শতাংশ জমি কিনে নেওয়া হয়। প্রতি শতাংশ জমির দাম ধরা হয় ৫২ হাজার টাকা। তিনি ১ শতাংশ জমির দাম মওকুফ করে দেন। বৃহস্পতিবার তিনি জমি বুঝিয়ে দেন। গ্রামবাসী বাদ্য বাজিয়ে ওই জমি বুঝে নেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিনব্যাপী চলে আনন্দ উৎসব। বাবুপুর গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গ্রামের যুবকরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের।
জমি কেনার অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, ৬০ শতাংশ জমি মাঠের জন্য কিনেছি। পাশে আরও ৬০ শতাংশ কেনার লক্ষ্য রয়েছে। সেভাবেই আমরা কাজ করছি। ১২০ শতাংশ জমি হলে ভালো মানের মাঠ হবে। একদিন এই মাঠকে কেন্দ্র করেই গ্রামের ক্রীড়াচর্চা হবে।
এই গ্রামের কিশোর হাবিবুল্লাহ সালমান বলে, ধান কাটা হলে খেতে গিয়ে খেলতে পারতাম। আবার ফসল বোনা হলে খেলা বন্ধ হয়ে যেত। এখন মাঠ হলো। সারা বছরই খেলতে পারব। তাই খুব ভালো লাগছে।
অপর কিশোর রাব্বী জোহা বলে, বাড়ির উঠানে খেলতে গেলে ফুটবলের আঘাতে ঘরের বেড়ার ক্ষতি হতো। এজন্য গালাগালি শুনতে হতো। এখন মাঠে খেলতে পারব। খেতে গিয়ে কারও ক্ষতি হবে না।
প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, আমরা একটা মাঠের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। আজ আমাদের স্বপ্নের মাঠ বাস্তবায়ন হলো। তাই খুব আনন্দ লাগছে।
বাবুপুর মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদার বলেন, এই মাঠে খেলাধুলার চর্চা হলে কিশোর-যুবকরা সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ পাবে। মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকবে।
বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি বলেন, বাবুপুর গ্রামের মানুষের অনেক দিনের স্বপ্ন একটি খেলার মাঠের। সেটির ব্যবস্থা তারা করতে পেরেছেন। এটি অনেক বড় প্রাপ্তি।
সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায়ের সাহায্য ছাড়া একটি গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে খেলার মাঠের জন্য জমি কিনেছেন। এটি অনেক ভালো খবর। এদের দেখে আরও অনেক গ্রামের মানুষ অনুপ্রাণিত হবে। তারা নিজেদের উদ্যোগে নিজ নিজ গ্রামে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র গড়ে তুলবে।
