নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা
‘ক্ষমতার মসনদ’ দখলে ২ এমপিপুত্রের লড়াই
শাকিল ইয়াবার চালান গায়েব করায় ক্ষুব্ধ হন এমপির বড় ছেলে মিন্টু * ছয় মাস আগেই হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট
Advertisement
তানজিমুল হক, গুরুদাসপুর থেকে ফিরে
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। এমন বর্বরতা মানতে পারছেন না বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযোগের তির নাটোর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর দিকে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে শাকিল ছিলেন তারই রাজনৈতিক অনুসারী। ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি হয়ে ওঠেন মিন্টুর ছোট ভাই মাহমুদুজ্জামান সোহাগের প্রধান সহযোগী, সব অপকর্মে তার ‘ডান হাত’। পক্ষত্যাগে শাকিলের ওপর ক্ষুব্ধ হন মিন্টু। সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে তৎপর হন দুই ভাই। এরই মধ্যে শাকিলের সহযোগিতায় অপরাধ সাম্রাজ্যেও আধিপত্য বাড়ান সোহাগ। মিন্টুর ইয়াবার একটি বড় চালান আটকে গায়েব করে দেন শাকিল। বাড়তে থাকে এমপির দুই পুত্রের রাজনীতির মাঠ দখলের দ্বন্দ্ব। একপর্যায়ে জীবন দিয়ে যার চরম মূল্য দেন শাকিল।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও এমপি আব্দুল আজিজের ক্ষমতার দাপটে দুই পুত্র ও ভাগিনা হয়ে উঠেছেন চরম বেপরোয়া। বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমপির পারিবারিক দ্বন্দ্বে বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। কয়েক মাস ধরে এ দুই উপজেলার প্রশাসন, থানা, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, পুকুর খনন ও রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে মিন্টু ও সোহাগের বিরোধ চরমে ওঠে। গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল সোহাগের প্রধান সহযোগী হয়ে ওঠার পর তার প্রভাব বাড়ার বিষয়টিও মানতে পারেননি মিন্টু।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, সোহাগের ডান হাত ছিলেন শাকিল। তাকে সরিয়ে দিতে পারলে সোহাগ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য হারাবেন। এ কারণেই পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে মিন্টু তাকে হত্যার মতো নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিন্টুকে ইঙ্গিত করে গত এপ্রিলে শাকিল এক পোস্টে লেখেন, ‘আমি জীবন নিয়ে খুবই সংশয়ের মধ্যে আছি। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযেগ করছেন।’ তার সেই আশঙ্কা গত ১৪ অক্টোবর বাস্তবে পরিণত হয়। বাড়ির পাশেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মানেন তিনি।
মিন্টুর বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য : নুরুজ্জামান মিন্টু গুরুদাসপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। স্থানীয়রা জানান, মিন্টু উগ্র ও অতিমাত্রায় মাদকাসক্ত। ’২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এ বাহিনীর হাতে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এলাকায় মিন্টুর বাহিনী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত দুই বছরে রাজশাহী অঞ্চলে মিন্টু হয়ে উঠেছেন ইয়াবার বড় কারবারি। স্থানীয়রা জানান, মিন্টু এখন এ অঞ্চলের ‘বদি’ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টেকনাফের সাবেক এমপি)। এছাড়া গুরুদাসপুরের অর্ধশতাধিক মাদক পয়েন্ট থেকে মাসোহারা নেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, গুরুদাসপুরের প্রশাসন ও থানা ম্যানেজ করে পুকুর খননের মাটি বিক্রি করে মিন্টু অল্প সময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধশত কোটি টাকা। গত তিন মৌসুমে তার অধীনে অন্তত শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে। পুকুর খননকারীদের সঙ্গে মিন্টু চুক্তি করেন, পুকুর থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রি করে সব টাকা তিনি নেবেন। এতে রাজি না হলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন।
গুরুদাসপুরের ধারাবাড়িষা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফাতুল্লাহ সরকার বলেন, ‘আমি ১২ বিঘার একটি পুকুর চার মাস আগে সংস্কার করেছি। পুকুরের সব মাটি বিক্রির টাকা দাবি করেন মিন্টু। তিনি জোরপূর্বক মাটি বিক্রির ৫০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন।’ বিষয়টি এমপি আজিজকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এছাড়া সম্প্রতি সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে মিন্টু হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। তিনি নিজেও সারের ডিলার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। বড়াইগ্রামে এক খ্রিষ্টান পরিবারের জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, ডিলারদের সঙ্গে চুক্তি ও দলিল লেখক সমিতিসহ ব্যবসায়ী সমিতি থেকে মিন্টু নিয়মিত মাসোহারা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি বড়াইগ্রামে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন।
প্রশাসন ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন সোহাগ : উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সোহাগ নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় প্রশাসন। গুরুদাসপুরে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্টহারে কমিশন নেন তিনি। তারও নিজস্ব বাহিনী আছে। নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত শাকিলই তার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে উপজেলা যুবদলের সদস্য ইসরাফিল শেখ, পৌর যুবদলের সদস্য সেলিম আহমেদ ও রকি নামে একজন ব্যবসায়ী সোহাগের সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, গুরুদাসপুর পৌর সদরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোহাগ ইতোমধ্যে এক বিঘার বেশি জমি কিনেছেন।
এমপির ভাগিনার নিয়ন্ত্রণে বড়াইগ্রাম : নাটোর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত উপজেলা বড়াইগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীরা সুযোগ না পেলেও আপন ভাগিনা সাদিকুর রহমান সুমন এমপি আজিজের অপরাধ সাম্রাজ্য দেখভাল করছেন। সুমন বড়াইগ্রাম সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। তিনি এ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুল কুদ্দুসের অনুসারী ছিলেন। তবে এমপি আজিজ আপন মামা স্বীকার করে সুমন বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। তবে আমি কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। শাকিল মারা যাওয়ার পর থেকে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’
এমপি আজিজের সঙ্গে মিন্টুর মানসিক দূরত্ব : এমপি আজিজের বড় ছেলে মিন্টু উগ্র প্রকৃতির। আর ছোট ছেলে সোহাগ কৌশলে বাবার মন জয় করে নিয়েছেন। ছয় মাস আগে এমপি তার ছোট ছেলে সোহাগকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী করবেন বলে নেতাকর্মীদের সামনে বলেন, যা মানতে পারেননি মিন্টু। এরপর থেকে তিনি ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেছেন। এরপর মিন্টু প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, তার বাবা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন না।
সম্প্রতি একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানেও দুই ভাই মারমুখী হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তারা একে অপরকে রিভলবার দেখান। বিষয়টি নিয়েও মিন্টুর ওপর ক্ষুব্ধ হন এমপি আজিজ। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহাগ। তিনি বলেন, ‘বড় ভাই মিন্টুর সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব নেই। তার সঙ্গে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ভিত্তিহীন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কেউ সম্পৃক্ত নয়। আমরা সম্পদ কিনিনি। নিজস্ব বাহিনী নেই। এগুলো সব অপপ্রচার। আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শাকিলের দীর্ঘ সম্পর্ক।’
মিন্টুর অপরাধ সাম্রাজ্যের সহযোগী ওসি হান্নান : গুরুদাসপুর থেকে সম্প্রতি ওসি আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার সঙ্গে মিন্টুর পারিবারিকও সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অবস্থান পোক্ত করতে মিন্টুর স্ত্রীকে ‘ধর্মবোন’ বানান। অভিযোগ রয়েছে, ওসি মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজিসহ মিন্টুর সব অপকর্মে সহায়তা করতেন। শাকিল গত ২০ এপ্রিল প্রাণহানির শঙ্কা জানিয়ে থানায় জিডি করলেও তা ওসি গায়েব করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৪ অক্টোবর হামলার শিকার হওয়ার পর তিন দিন জ্ঞান থাকলেও তার জবানবন্দি নেননি ওসি।
প্রতিবাদ করায় দুই যুবদল কর্মীর ওপর হামলা : শাকিলের ওপর হামলার প্রতিবাদ করায় ১৫ অক্টোবর শাব্বির আহমেদ নামে এক যুবদলকর্মীকে কোপানো হয়েছে। এছাড়া ১৮ অক্টোবর শাহ আলম নামের আরেক যুবদল কর্মীও হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় মিন্টু এবং তার বাহিনী জড়িত বলে জানা গেছে।
শাকিলের মৃত্যুর পর এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ অক্টোবর রাতে শাকিল মারা যান। পরে সেখানে যান এমপি আজিজ। হাসপাতালে তাকে অবরুদ্ধ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় শাকিল হত্যায় তার ছেলে মিন্টু জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
একপর্যায়ে এমপি ছেলে মিন্টুকে আটকের জন্য ওসি হান্নানকে ফোন দেন। ওসির নির্দেশে পুলিশের একটি টিম মিন্টুকে রাত ১২টার দিকে তার ভাড়া বাসা থেকে আটক করতে বাধ্য হয়। পরদিন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওসি হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে শাকিল হত্যা মামলা গুরুদাসপুর থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্যের জন্য ওসি হান্নানকে একাধিকবার ফোন করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাকিলের লাশ তড়িঘড়ি করে দাফন : শাকিলের লাশ গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের কাছারিপাড়া এলাকার বাড়িতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পৌঁছায়। মাত্র আধা ঘণ্টা লাশ বাড়িতে রাখা হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে তার জানাজা হয়। এ সময় এমপি আজিজ জানাজায় শাকিলের বাবা রবিউল করিমকে ২০ লাখ টাকা দিতে চাইলে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর আর দাফনে অংশ নেননি এমপি আজিজ। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, এমপি আজিজ জনরোষ এড়াতেই শাকিলের লাশ দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করেন।
মামলার এজাহারেও হস্তক্ষেপ : শাকিলকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা রবিউল করিম থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে মামলার এজাহারে কারও নাম নেই। মামলার এজাহার এমপি আজিজ ও তার ঘনিষ্ঠদের পরামর্শে করা হয়েছে বলে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
যা বললেন এমপি আজিজ : দুই ছেলের মধ্যে বিরোধ নেই দাবি করে এমপি আজিজ বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমি ছোট ছেলে সোহাগের নাম ঘোষণা করিনি। তাদের মধ্যে হয়তো সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। দুই ছেলের কোনো বাহিনী নেই। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন। এছাড়া আমার ভাগিনা সুমনকে বাগাতিপাড়া উপজেলায় কোনো ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘শাকিল মারা যাওয়ার পর আমি হাসপাতালে অবরুদ্ধ হইনি। মিন্টুকে আটকের জন্য ওসিকে বলিনি। মামলার এজাহারে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
পুলিশের বক্তব্য : জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘এমপিপুত্র মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাবে না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। এছাড়া আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন ধারাবষিয়া গ্রামের আলামিন হোসেন ও খামারনাচকৈড় গ্রামের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান।
