বর্ষাকে হত্যার অভিযোগ মায়ের
ব্যবসার টাকার জন্য চাপ দিতেন অভিযুক্ত নাবিদ
Advertisement
তেজগাঁও (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মনিপুরীপাড়ায় স্বামী নাবিদ হোসাইনের নির্যাতনে জুমরাতুন নেছা বর্ষা (২৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করেছে তার পরিবার
। বর্ষার মা হাসিনা আক্তার শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, বিয়ের পর থেকে ব্যবসা ও মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে সব সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বর্ষাকে চাপ দিতেন নাবিদ। এজন্য প্রায় তাকে নির্যাতন করা হতো। ঘটনার রাতেও তাকে মারধর করা হয়। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি-ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। যদিও মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিওকল করে নির্যাতনের কথা জানিয়ে বাঁচানোর শেষ আকুতি জানিয়েছিলেন বর্ষা।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে নাবিদের বাসা থেকে বর্ষার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন বর্ষার বাবা শেখ মনোয়ার হোসেন। এ মামলায় গ্রেফতার নাবিদকে রোববার রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, প্রেমের সম্পর্কের কারণে ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর ঘরোয়াভাবে বর্ষা ও নাবিদের কাবিন সম্পন্ন হয়। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
বর্ষার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে বর্ষাকে মারধর করছিলেন নাবিদ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাত ১২টার দিকে বর্ষা তার বাবার ফোনে ভিডিওকল করে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘বাবা, আমাকে বাঁচাইতে আসো।’
২০ মিনিটের মধ্যে মা-বাবা শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছেছিলেন। সেখানে গেলে নাবিদের পরিবার তাদের জানায়, বর্ষা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। পরে বর্ষাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে শুক্রবার বর্ষা মা হাসিনা আক্তার বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা হতে পারে না। মেয়ের যদি আত্মহত্যা করারই হতো, তাহলে তো আমাদের ডাকত না। শেষ ভিডিওকলে মেয়ে চিৎকার করে বলছিল, বাবা আমাকে বাঁচাইতে আসো।’
বর্ষার বাবা মনোয়ার হোসেন জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তারা লালবাগে থাকেন। সেখানে নিজেদের দুটি ফ্ল্যাট থেকে ভাড়াও পান। স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকে ব্যবসা ও মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বর্ষাকে চাপ দিতেন নাবিদ। কয়েকবার টাকা দিলেও তা দিয়ে তিনি মাদকসেবন করেন। সে কারণে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় বর্ষার পরিবার।
হাসিনা আরও বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন পর থেকে নাবিদ টাকা চাইতে শুরু করেন। বর্ষাকে বলতেন-আমি ব্যবসা করব, তোমার বাবাকে বলো এক লাখ টাকা দিতে। অসুস্থতার কারণে আমার স্বামীর আয় আগের মতো নেই। এরপরও নাবিদ এ রকম করে অনেকবার টাকা নিয়েছেন। আর আমার মেয়ের সঙ্গে ওর বাবার সম্পর্ক অনেক গভীর ছিল। মেয়ে যখন যা চাইতেন, বাবা দিয়ে দিতেন। আমি অনেক সময় রাগ করতাম। সেজন্য আমাকে এ বিষয়ে বলতেনও না।’
তেজগাঁও থানার ওসি মুনিরুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেতে আরও সময় লাগবে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে রোববার রিমান্ড শুনানির জন্য নাবিদকে আদালতে তোলা হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাবিদের বাবা মঞ্জুর হোসেন ও মা নুরুন নাহারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি। পরে পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানোর পর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
