Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

সানেমের সেমিনারে আহসান এইচ মনসুর

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই

সংকটের কারণ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নয়, অভ্যন্তরীণ * আর্থিক খাত দ্রুত সংস্কারের তাগিদ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই। দেশের অর্থনীতির এই সংকটময় পরিস্থিতিতে নেই কোনো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বা কার্যকর রাজনৈতিক ভূমিকা। যেটা অনেক আগে নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে আর্থিক খাতের সংস্কার করা উচিত ছিল আরও আগে।

রোববার ‘দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্রুত আর্থিক খাতে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন। রাজধানীর ব্যাক ইন সেন্টারে যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও বিশ্বব্যাংক।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় চিফ ইকোনমিস্ট ড. ফ্রানজিসকা রিসিলোটি ওহানসোরোজ।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, অনেকে বলছেন দেশের অর্থনৈতিক সংকট বৈশ্বিক কারণে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে। আসলে বিষয়টি তা নয়। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কারণে এ সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় বলেছেন আমরা ভালো করছি। আমাদের অর্থনীতি ভালো করছে। হ্যাঁ আমরা ভালো করছিলাম। কিন্তু যখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেল তখন আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেইনি। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখন আমাদের জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে হবে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করতে হবে।

জিডিপি অনুপাত অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েও রাজস্ব বাড়ানো যাচ্ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ রাজস্ব আহরণ হয় তার চেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণ হয় দক্ষিণ আফ্রিকাতে। করোনাকালীন আমরা আমাদের খরচ কমাতে পেরেছি কিন্তু আয় বাড়াতে পারিনি। এখন আমাদের আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বৈদেশিক ঋণ এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আছে তা ঠিক। কিন্তু ইতোমধ্যে বেশকিছু ঋণ পরিশোধের সময় হয়ে গেছে। দিন যত যাবে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়বে। সেই চাপ মোকাবিলায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে হবে।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, এখনই সরকারকে অর্থনীতির ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা বিবেচনায় স্বল্পমেয়াদে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। যখন আমাদের দেশে অর্থনীতিতে সুসময় চলছিল তখনও এই সমস্যাগুলো চলছিল। কিন্তু তখন আমরা সে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারিনি। কোনো পদক্ষেপও নেইনি। এখন আমাদের রিজার্ভ এবং প্রবাসী আয় কমেছে। এখনই সমস্যাগুলো সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে। আইএমএফের শর্তের প্রসঙ্গ টেনে সেলিম রায়হান বলেন, এসব শর্তের কথা আমরাও অনেক আগে থেকে বলে আসছিলাম। আগামী ২ থেকে ৩ বছর আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন যদি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে অর্থনৈতিক সংকট কাটানো সম্ভব। এছাড়া মধ্য আয়ের ফাঁদে বাংলাদেশের পড়ার শঙ্কা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামির সাত্তার বলেন, নিবার্চন পরবর্তী যে সরকার আসুক না কেন, অর্থনীতির জন্য বেশকিছু খাতে সংস্কার এখন জরুরি। আমাদের এখন সরকারি অর্থ খরচের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প নিতে হবে। সরকারি অর্থ খরচে সতর্কতা নিতে হবে। যাতে অপচয় না হয়। কর আহরণে এনবিআরকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এক হিসাবে দেখা যায় আহরিত করের ৯০ শতাংশ আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। কিন্তু এখন দেশের সব জায়গার মানুষের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে। এনবিআরকে সে জায়গায় নজর দিতে হবে।

ফ্রানজিসকা রিসিলোটি ওহানসোরোজ বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। রাজস্ব আহরণ থেকে শুরু করে আর্থিক খাতে দ্রুত সংস্কার করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজধানীর বাজার শীতের সবজিতে ভরপুর কিনতে পকেট ফাঁকা

শীতের সবজিতে ভরপুর কিনতে পকেট ফাঁকা

এতিম মেয়েদের ‘উকিল বাবা’ সাজ্জাদ পারভেজ

এতিম মেয়েদের ‘উকিল বাবা’ সাজ্জাদ পারভেজ

এলডিসি উত্তরণ পেছাল তিন বছর রপ্তানিতে আপাতত স্বস্তি এলেও সামনে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ

রপ্তানিতে আপাতত স্বস্তি এলেও সামনে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ

৩০ লাখ টাকায়ও শেষ রক্ষা হয়নি লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু, মুক্তিপণ আদায়কারীকে অব্যাহতি

লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু, মুক্তিপণ আদায়কারীকে অব্যাহতি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম