নতুন ব্রিটিশ ৫০ পাউন্ড নোটে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর মুখ

চলতি বছর বাজারে আসবে এটি

  যুগান্তর ডেস্ক ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর মুখের প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে ব্রিটিশ পাউন্ডে। যুক্তরাজ্যের বাজারে চলতি বছর আসবে নতুন ৫০ পাউন্ডের ব্যাংক নোট। এতে ছাপানো হবে প্রখ্যাত এ বিজ্ঞানীর মুখ। সম্প্রতি এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

এর আগে নোটে ছাপানোর জন্য একশ’ বিজ্ঞানীর নাম উঠে আসে। প্রাথমিকভাবে এ নামগুলোর মধ্যে এগিয়ে ছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। গত ডিসেম্বরে তার মুখ ছাপানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে একটি ‘ডামি নোট’ও প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের কাছে ১ লাখ ৭৫ হাজার মনোনয়ন জমা পড়েছে। এরমধ্য থেকে বেছে নেয়া হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার নাম- যার মধ্যেই রয়েছেন জগদীশ চন্দ্র বসু। আধুনিক বিজ্ঞানের পথিকৃৎ তিনি। এ ছাড়াও যে যোগাযোগ রক্ষা করা যায় তা প্রথম আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুই দেখিয়ে দিয়েছিলেন। আবিষ্কার করেছিলেন আধুনিক বেতার তরঙ্গ- যা ছাড়া ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সম্ভব ছিল না।

আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু পলিম্যাথ, বায়োলজিস্ট, বায়োফিজিস্ট, বোটানিস্ট ও আর্কিওলজিস্টও ছিলেন। এছাড়া কৃষি বিজ্ঞানেও তার অনেক অবদান রয়েছে। নিরহংকারী বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর কথা কম-বেশি সবাই জানি। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন বেতার তরঙ্গ, কিন্তু পেটেন্টের প্রতি অনুরাগী ছিলেন না। তাইতো টেলিগ্রাফের আবিষ্কারক হিসেবে লিপিবদ্ধ গুলিয়েলমো মার্কোনির নাম। তবে এবার সম্মানটা ঠিকই পাচ্ছেন বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানী। জগদীশ চন্দ্র বসুই বিশ্ববাসীকে প্রথমবারের মতো জানিয়েছিলেন উদ্ভিদের মধ্যে আছে প্রাণশক্তি। এটি প্রমাণের জন্য তিনি ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা উদ্ভিদদেহের সামান্য সাড়াকে লাখো গুণ বৃদ্ধি করে প্রদর্শন করে।

তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) মুন্সীগঞ্জে ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্ম। পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন তৎকালীন ব্রাহ্ম সমাজের একজন বিশিষ্ট সদস্য। চাকরি করতেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের এবং একই সঙ্গে ছিলেন ফরিদপুর, ভারতের বর্ধমানসহ কয়েকটি এলাকার সহকারী কমিশনার হিসেবে। ব্রিটিশ আমলে জন্ম নিয়েও জগদীশ চন্দ্রের শিক্ষা জীবন শুরু হয় বাংলা ভাষায়। সেই সময় অভিভাবকরা নিজের সন্তানকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ছিলেন সবসময় তৎপর।

জগদীশ চন্দ্রের এই পারিপার্শ্বের থেকে উল্টো স্রোতে গা ভাসানোতে অর্থাৎ বাংলা ভাষায় শিক্ষাজীবন শুরু করতে তার পিতার ভূমিকাই ছিলাবেশি। পিতা ভগবান চন্দ্র বসু বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাগ্রহণের জন্য সর্বপ্রথম চাই নিজের মাতৃভাষাকে ভালোভাবে রপ্ত করা এবং দেশপ্রেমকে অন্তরে ধারণ করা। তারপর না হয় বিদেশি ভাষা শেখা যাবে। সেই যুগে এমন চিন্তা-ভাবনার কথা কেবল কোনো স্বদেশপ্রেমিকের মুখেই মানাতো।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৭০ ৩০
বিশ্ব ১১,৩০,৫৯১২,৩৫,৮৯১৬০,১৪৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×