খামারির সাড়ে ৬ টাকার ডিম খুচরায় ১৩ টাকা
Advertisement
ইয়াসিন রহমান
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উৎপাদন খরচ সাড়ে ৯ টাকা হলেও লোকসান গুনে প্রান্তিক খামারিরা প্রতি পিস ডিম খামার পর্যায়ে সাড়ে ৬ টাকা বিক্রি করছেন। অথচ সেই ডিম আড়ত হয়ে খুচরায় মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে প্রতি পিস ডিম ১৩ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত এবং কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যে একদিকে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়তি মূল্যে ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট খামারগুলো বন্ধ হয়ে গেলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিম ও মুরগির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এতে চাপে পড়বে ভোক্তা।
রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, কাওরান বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। তবে এই একই ডিম রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১০-১৫ টাকা কম ছিল। আর এক মাস আগে ডজনপ্রতি ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে খুচরা বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে সাদা রঙের ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক পণ্যমূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মঙ্গলবার মাসের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিম ২১.৬২ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর গত বছর ঠিক একই সময়ের তুলনায় বিক্রি হচ্ছে ৫.৮৮ শতাংশ বেশি দামে।
নয়াবাজারে ডিম কিনতে আসা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এক মাস ধরে ডিমের দাম বাড়ছে। বিক্রেতারা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে নাজেহাল করে ফেলছে। কিন্তু ডিমের বাজারে কোনো অভিযান নেই। কোনো কর্মকর্তা দাম বাড়ার কোনো অনুসন্ধান করছে না। সেই সুযোগে বিক্রেতারা ক্রেতার পকেট কাটছেন।
একই বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, পাইকারিতে প্রায় প্রতিদিন ডিমের দাম বাড়ছে। গত দু-তিন সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তাই বাড়তি দাম দিয়ে এনে আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে তেজগাঁও আড়তের ডিম ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, এখন পাইকারি প্রতি একশ লাল ডিম ১ হাজার ১৮০ থেকে ১ হাজার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চারদিন আগেও যা ১ হাজার ১৫০ টাকা ছিল। তিনি বলেন, সারা দেশে বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কমেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণেও দাম কিছুটা বাড়তি। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার খামার থেকে ঠিকমতো ডিম আসছে না।
মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুরের প্রান্তিক খামারি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শনিবারও আমি ডিম বিক্রি করেছি সাড়ে ৬ টাকায়। অথচ প্রতিটি ডিম উৎপাদনে আমার খরচ হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা। কয়েক মাস ধরে লোকসানে বিক্রি করছি। এখন এই লোকসান বহন করার মতো আর শক্তি নেই। তিনি জানান, বড় কোম্পানির কারণে একদিকে আমরা লোকসান দিয়ে ডিম বিক্রি করছি, অন্যদিকে ক্রেতাও বাড়তি দরে কিনে খাচ্ছেন।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ডিমের দাম বাড়ার পেছনে কারা দায়ী, তা সরকারি বাজার তদারকি সংস্থার বের করতে হবে। শুধু বের করলেই হবে না, বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে যারা দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাজারে তদারকি চলমান আছে। কেন ডিমের দাম বৃদ্ধি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হবে। তদারকির মাধ্যমে দাম সহনীয় করা হবে।
