ইন্টারনেটে অপতৎপরতা!
Advertisement
জাহিদুল ইসলাম খন্দকার
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কী আছে ইন্টারনেটে? এ প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন চলে আসে- কী নেই ইন্টারনেটে? আঙুলের সামান্য স্পর্শেই পৃথিবীকে স্পর্শ করা সম্ভব ইন্টারনেটের বদৌলতে। আমরা সবাই তথ্যপ্রত্যাশী। নিশ্চিত তথ্যের সন্ধানে ইন্টারনেটে আমরা ঢু মারি।
কিন্তু প্রায়ই একই বিষয়ে অনেক তথ্য থাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত তথ্যের সন্নিবেশের কারণে সঠিকতা নির্ণয়ে সংশয়ে পড়ে যাই। সমাধান খুঁজতে গিয়ে বরং নতুন সমস্যায় পড়ি। তথ্যপিপাসা মেটাতে গিয়ে শিকার হই তথ্যবিভ্রান্তির।
বর্তমানে বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৩৯ কোটি। ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৯ শতাংশ। তরুণ ও যুবকরাই সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদেরকে টার্গেট করেই নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত বিভিন্ন দুর্বৃত্ত গোষ্ঠী।
তরুণদের আবেগ বেশি এবং তারা সহজেই আন্দোলিত হয় বলে তাদের ইমোশনকে পুঁজি করে ঘৃণ্য পথে নেয়ার চেষ্টার কমতি নেই। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব সন্ত্রাসের ঘটনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর সঙ্গে দুঃখজনকভাবে অনেক উচ্চশিক্ষিত ছেলে জড়িত। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, এমনকি কিছু শিক্ষকও আছেন।
কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্তৃক যে অভিযান চালানো হয় তাতে আটক হয় আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষক। কিছুদিন আগে ঢাকায় পুলিশের ওপর যে হামলাগুলো হয়েছে তার সঙ্গে এরা জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন মানুষ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়? একজন মানুষ যখন চরম হতাশায় ভোগে, যখন মনে করে তার সামাজিক কোনো মূল্য নেই, তখন সে সমাজের বিপরীতে অবস্থান নেয়ার প্রয়াস পায়। ভার্চুয়াল সংযুক্ততাও অনেক সময় এ ধরনের মনোভাব তৈরি করে। প্র
চুর অ্যাডভেঞ্চারাস ও সিম্যুলেটিং গেম খেলে যখন কেউ এগুলোতে অত্যধিক আসক্ত হয়, তখন এরকম সহিংস প্রবণতা তার ব্যক্তিত্বে প্রবেশ করে। নিজের স্বকীয়তা প্রকাশ করতে তারা সহিংস পথ বেছে নেয়।
প্রত্যেক ব্যক্তিই কোনো না কোনো পরিবারের সদস্য। সন্তানদের সঠিক মনোভাব গঠনে এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবকদের গভীর মনোযোগ দিতে হয়। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় কোনো বর্ডার না থাকায় সহজেই নেতিবাচক পথে পা বাড়ানোর ঝুঁকি থাকে। হাজার হাজার সন্ত্রাসবাদী ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে প্রবেশ করলেই তারা কাউন্সেলিং শুরু করে দেয়।
তাদের পথে পা বাড়ানোর এটাই হয় প্রথম পদক্ষেপ। কিভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরি করা যায়, ইউটিউবে তার অসংখ্য টিউটোরিয়াল রয়েছে। বাংলাদেশে যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত তাদের মোটামুটি সবাই ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখেই বোমা তৈরি শিখেছে।
কাজেই আপনার সন্তান ইন্টারনেটে কী করছে সেদিকে নজর রাখুন। তাদের ব্রাউজিং হিস্টরি চেক করুন। যেসব সাইট তরুণদের বিপথে নিয়ে যেতে পারে, সরকারের উচিত সেগুলোর এক্সেস বাতিল করা। সুষ্ঠু, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা। সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল জগতের প্রভাবে।
কিভাবে এ বন্ধন দৃঢ় করা যায় সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের প্রতি মমত্ববোধ সবরকম অপকর্ম থেকে মানুষকে দূরে রাখে।
জাহিদুল ইসলাম খন্দকার : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
