Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

টিকে থাকার লড়াই

বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টিকে থাকার লড়াই

Advertisement

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পরিবহণ, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাপিয়ে যাওয়ায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। খোদ সরকারি হিসাব বলছে, এক বছর আগে ৩০ হাজার টাকায় যে পরিবার এক মাস চলতে পারত, মূল্যস্ফীতির চাপে বর্তমানে সেই একই টাকায় চলছে মাত্র ২৭.৭ দিন। ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও চার-পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, আর নিম্নবিত্ত ও দিনমজুরদের অবস্থা পৌঁছেছে অবর্ণনীয় দুর্দশায়। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে মানুষ তাদের সঞ্চয় ভাঙছে, ধারদেনা করছে, খাদ্যের তালিকা থেকে পুষ্টিকর খাবার বাদ দিচ্ছে এবং খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিতে কিংবা নিজেরা শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক বছরের ব্যবধানে আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, আলু, চিনি, ডিম, এমনকি মাছ-মাংসসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর পাশাপাশি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি চড়া দাম মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলছে। যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, সে তুলনায় আয় না বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী ক্রমেই নিঃস্ব হচ্ছে। অভাবের কথা কাউকে বলতে না পারা মধ্যবিত্ত শ্রেণি উৎসব-অনুষ্ঠান বা আত্মীয়তার সামাজিকতাও রক্ষা করতে পারছে না। বলা বাহুল্য, এমন অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে দেশের একটি জনগোষ্ঠীর ভেতর বড় ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

কাজেই বাজারের এই বেসামাল পরিস্থিতি আর দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া যায় না। এ পরিস্থিতি নিরসনে সরকারকে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী এবং চড়া মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্য রোধে বাজার তদারকি ব্যবস্থাকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক কঠোর রূপ দিতে হবে, তেমনি আমদানিকৃত এবং দেশীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা আনা এবং পরিবহণ খাতে চাঁদা আদায় রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির কড়া থাবা থেকে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষকে রক্ষা করতে খোলাবাজারে ট্রাকসেলের মাধ্যমে কম মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতা বহুগুণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের পরিধি বিস্তৃত করাও জরুরি।

একইসঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম ঘনঘন বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেওয়ার প্রবণতা থেকে সরকারের সরে আসা উচিত বলে মনে করি আমরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুরি ও আয়ের সামঞ্জস্য না থাকলে শুধু ধারদেনা করে প্রবাস বা শহরের জীবন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিল্পজাত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন অর্থনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এবং জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

টিকে থাকার লড়াই

টিকে থাকার লড়াই

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম