আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
সরকারকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শান্ত, নিস্তরঙ্গ, মানুষে মানুষে সৌহার্দ্যরে শহর খুলনা যে এভাবে এক অশান্ত, তরঙ্গায়িত, রোষানলের শহরে পরিণত হবে, আগে ভাবা যায়নি। সত্যিই তো, ভাবা কি যায়, গত ৯ মাসে ৬৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এখানে! আধিপত্যবাদের এক নিষ্ঠুর খেলা চলছে সেখানে। দখলদারদের রাজত্ব চলছে। কথায় কথায় মারামারি, খুনোখুনি। এ কেমন কাণ্ড, প্রকাশ্যে সাবরেজিস্ট্রারের মতো সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা! নীরব চাঁদাবজি তো আছেই, দেদার চলছে মাদক ব্যবসা, গজিয়ে উঠছে মহল্লায় মহল্লায় সন্ত্রাসী বাহিনী, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কিশোর গ্যাং। সুনাগরিক যারা, তাদের জন্য এক বড় দুর্দিন এখন। কখন কে কাকে পেটায়, অথবা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় কারও শরীর, কেউ জানে না। অবস্থা এখন এমন যে, পুলিশ সদস্যদের বারণ করে দেওয়া হচ্ছে রাতে একাকী রাস্তায় বেরোতে। পুলিশের প্রতি এই নির্দেশ জনমনের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে কি রাতের খুলনায় কেউ রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় আক্রান্ত হলে তাকে বাঁচানোর মতো কেউ থাকবে না?
খুলনার পরিস্থিতি হয়তো বেশি উদ্বেগজনক, তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলও কি অপরাধমুক্ত থাকছে? ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর নেত্রকোনায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক সাংবাদিককে। এর মানে কী দাঁড়াল? সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পুলিশ, এমনকি সাংবাদিকও রক্ষা পাচ্ছেন না আক্রমণের হাত থেকে। বলা নিষ্প্রয়োজন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে পড়েছে সমগ্র দেশবাসীর জন্য। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? উত্তরণের পথ খুঁজে না পাওয়ার অর্থ, এই প্রতিকূল বাস্তবতাতেই বাস করতে হবে নাগরিক সম্প্রদায়কে। সরকারকে অবশ্যই গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো গাফিলতি আছে কিনা, খতিয়ে দেখতে হবে।
আমাদের কথা হলো, অপরাধ দমনে যতটা কঠোর হওয়া সম্ভব, সরকারকে ততটাই কঠোর অবস্থান নিতে হবে। অপশক্তিকে দমন করতে গিয়ে কঠোর হলে গণতন্ত্রের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং তাতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই সাধারণ মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ অগ্রাধিকারকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে তৎপর হতে হবে সরকারকে।
