Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

প্রয়োজন সাহসী নীতি সংস্কার

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

Advertisement

দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র নাগরিক মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান চাপে এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিনদিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক, তা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নেতিবাচক পূর্বাভাসে আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। স্পষ্ট করে বললে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক জটিল পরিস্থিতি অতিবাহিত করছি আমরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে থাকার যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তা স্পষ্টতই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর গভীর চাপের নির্দেশক।

বলা বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক জ্বালানি সংকট এবং প্রবাস আয়ের সম্ভাব্য অনিশ্চয়তা এ শঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় কেবল পরিস্থিতির ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না, সরকারকে দ্রুত বাস্তবমুখী ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার আলোকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে সর্বাগ্রে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে সচল করতে হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের সুদহার পুনর্বিবেচনা এবং বিনিয়োগবান্ধব নমনীয় নীতি গ্রহণ করাও এখন সময়ের দাবি। এছাড়া শিল্প উৎপাদন চালু রাখতে কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ কারখানা চালুর জন্য যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে, অভিযোগ আছে, কঠোর শর্তের কারণে তা ব্যবসায়ীদের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। জানা যায়, এই তহবিলের সিংহভাগ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে, নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। সরকারের উচিত হবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কঠিন শর্তগুলো দ্রুত সহজ করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।

একই সঙ্গে সংকট কাটাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং অপচয় রোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। লোকসানি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনায় গতি আনতে এবং সরকারের ঋণের বোঝা কমাতে এগুলোকে শেয়ারবাজারে ছাড়া অথবা নিলামের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে হস্তান্তরের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সর্বোপরি মূল্যস্ফীতির কশাঘাত থেকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করা এবং সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

বৈধ পথে প্রবাসী আয় আনা সহজ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপশি কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প অর্জনে বিনিয়োগ, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বেসরকারি খাতকে পূর্ণ অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। স্বচ্ছতা ও জোরালো সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

কঠিন সময়ে অর্থনীতি

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান

বিদ্যুৎ খাতের নতুন সংকট

বিদ্যুৎ খাতের নতুন সংকট

বিদেশের মাটিতে অসদাচরণ

বিদেশের মাটিতে অসদাচরণ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম