Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

বিদেশের মাটিতে অসদাচরণ

চাই কঠোর আইনি জবাব

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশের মাটিতে অসদাচরণ

সংগৃহীত

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ধরে আক্রমণাত্মক স্লোগান ও হেনস্তার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু একজন আন্তর্জাতিকভাবে খুবই সম্মানিত ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন করার নামান্তর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্র থেকে স্পষ্ট, পতিত রাজনৈতিক অপশক্তির কিছু চিহ্নিত সদস্য পরিকল্পিতভাবে বিমানবন্দরে এই বিশৃঙ্খলা ও কদর্য আচরণের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত কিংবা ক্ষোভ প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার যে কারোরই থাকতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানিত এক প্রবীণ ব্যক্তিত্বের গতিপথ রোধ করে চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশ্রাব্য মন্তব্য করা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না। ইতঃপূর্বে ইতালিতে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে হেনস্তার ঘটনাও আমরা দেখেছি; সেই ধারাবাহিকতায় ফের নিউইয়র্কে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে, বিদেশে অবস্থানরত এই গোষ্ঠীর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মানসিকতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে।

এই ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাবেক উপদেষ্টামণ্ডলী যথার্থভাবেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো, সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আওতায় এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও সম্মানিত ব্যক্তিদের অপদস্থ করার এই অপরাজনীতি এখনই বন্ধ হওয়া দরকার। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদেরও মনে রাখতে হবে, তাদের প্রতিটি আচরণ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যদি দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, তবে তা শেষ পর্যন্ত পুরো জাতির জন্যই অকল্যাণকর। সরকার যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া দরকার-বিদেশের মাটিতে এ ধরনের উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী আচরণ কোনোভাবেই পার পাবে না। দেশের সম্মান সমুন্নত রাখতে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও আরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ খাতের নতুন সংকট

বিদ্যুৎ খাতের নতুন সংকট

বিদেশের মাটিতে অসদাচরণ

বিদেশের মাটিতে অসদাচরণ

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

এলপিজি সংকট

এলপিজি সংকট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম