এলপিজি সংকট
স্বচ্ছ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের জ্বালানি বাজারে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে অস্থিরতা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষভাগে আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব আশ্বাস দিয়েছিল, মূল্য সমন্বয় হলে আমদানি বাড়বে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু দাম বৃদ্ধির পর অক্টোবরেও দ্বিতীয় সপ্তাহেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। একদিকে পাইকারি পর্যায়ে চালানের জন্য ট্রাক ৩-৪ দিন প্ল্যান্টে আটকে থাকছে, অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা চাহিদার তুলনায় কম সিলিন্ডার পাচ্ছেন। ফলে দুর্ভোগের শেষ নেই সাধারণ ভোক্তাদের। পাশাপাশি পাম্পগুলোয়ও দেখা দিয়েছে অটোগ্যাসের সংকট।
এলপিজি আমদানিকারকদের দাবি, চলতি মাসে চাহিদার বিপরীতে দেড় লাখ টনেরও বেশি গ্যাস আমদানি হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং স্পট মার্কেট থেকে আমদানিকৃত কার্গো পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে পাইপলাইনে সাময়িক ছেদ পড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে এ ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিবেশকদের সংগঠন এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। তাদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত গ্যাস দেশে এলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ থমকে আছে কেন? কোথায় এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস উধাও হচ্ছে?
বাস্তবতা হলো, সংকটটি কেবল সরবরাহের বিলম্ব নয়; এর পেছনে বাজার তদারকির ব্যর্থতা ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বড় ভূমিকা রয়েছে। ক্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম সংকট ও অসাধু মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) থাকলেও এর প্রয়োগ দৃশ্যমান নয়। বিইআরসির কাজ কেবল প্রতি মাসে কাগজ-কলমে দর নির্ধারণ করা হতে পারে না; আমদানি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতাও তাদের ওপর বর্তায়। এদিকে এলপিজি ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
বস্তুত এলপিজি সংকট কাটাতে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ব্যবস্থাপনায় এলপিজি আমদানির উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে বেসরকারি সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটে। পাশাপাশি, বিইআরসি ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অসাধু মজুতদারদের চিহ্নিত করতে হবে। বিইআরসি, আমদানিকারক ও পরিবেশকদের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
