সৌদি আরবে হুথিদের হামলা
প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জনের প্রাণহানি এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। ভয়াবহ এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বগুড়ার শ্রমজীবী শাহেদ আহম্মেদ ও ওমরাহযাত্রী মুফতি নাসরুল্লাহর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চলাচল বিপর্যস্ত হওয়ায় রিয়াদে এবং বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসাধীন আহতদের অবস্থা এবং ফ্লাইট বাতিলের ফলে দেশে ও প্রবাসে আটকে পড়া হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। প্রবাসী ভাইবোনেরা কেবল পরিবারের অন্নসংস্থান করেন না, তারা দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি বা রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কর্মস্থলে ফেরার মুখে কিংবা ওমরাহ পালনের মতো পবিত্র উদ্দেশে গিয়ে এভাবে জীবন দেওয়া কিংবা চরম অনিশ্চয়তায় পড়া অত্যন্ত কষ্টকর।
আমরা মনে করি, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী পরিবারগুলোর পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যাবতীয় প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা জরুরি। এছাড়া আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসেবায় যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখাও প্রয়োজন। অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ বাঞ্ছনীয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের সাময়িক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বিমান টিকিট পুনর্নির্ধারণ এবং ভিসা ও ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ তথ্য ও সহায়তা ডেস্ক চালুর বিকল্প নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ সংকট ও সংঘাতের মধ্যে আমাদের বিশাল জনশক্তির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, সেখানে জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ মিশনগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুতগতির করতে হবে। কোনো কারণে সৌদি আরবের ফ্লাইট দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ বা সীমিত হলে বিকল্প উপায়ে প্রবাসীদের নিরাপদে কর্মস্থলে পৌঁছানোর রূপরেখা তৈরি রাখতে হবে, যেন সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে কোনো প্রবাসীকে চড়া দামে টিকিট কিনতে না হয়। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো যেন টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বেসামরিক বিমানবন্দর ও সাধারণ মানুষের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সংঘাতের বিরুদ্ধে শান্তি, কূটনীতি ও সংলাপের যে বার্তা দিয়েছে, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঠিক পথ। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ এ সহিংসতা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে কঠোর ভূমিকা পালন করবে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আমরা বলতে চাই, প্রবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে এখনই সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও তৎপরতার পরিচয় দিতে হবে।
