পানিতে মলের জীবাণু
নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিতে চাই কার্যকর পদক্ষেপ
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পানি মানুষের জীবনধারণের অন্যতম মৌলিক উপাদান। কিন্তু সেই পানিই যদি হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী জীবাণুর আধার, তাহলে তা একটি জাতির জন্য চরম অশনিসংকেত। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউনিসেফের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫’ এবং পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মূল্যায়নে দেশের পানি সংকটের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা এককথায় উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসাবাড়ির ব্যবহারযোগ্য পানিতে মলের জীবাণু ‘ই. কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের ১৫৩টি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজধানীর নদীগুলোর মাত্রাতিরিক্ত দূষণ। সব মিলিয়ে দেশে পানির সংকট শুধু প্রাপ্যতায় নয়, মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ই. কোলাই সংক্রমণের ফলে ডায়রিয়া, জ্বর, রক্তশূন্যতা থেকে শুরু করে কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়, যার সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। অন্যদিকে ওয়ারপোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র পানি সংকট রয়েছে। কৃষিকাজে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেখানে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। একইভাবে চট্টগ্রামের পটিয়ায় শিল্পকারখানাগুলোতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে যথেচ্ছ পানি উত্তোলনের কারণে সেখানকার পানির স্তরও ভয়াবহভাবে নিচে নামছে। ২০১৯ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কথা উঠে এলেও শিল্পকারখানাগুলোর বেপরোয়া আচরণ থামেনি। জনস্বাস্থ্যের এমন মারাত্মক অবনতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, কেবল নতুন নলকূপ বসিয়ে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; বরং কোথায়, কী পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি তোলা যাবে, তার একটি বৈজ্ঞানিক ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের আধুনিক পদ্ধতি চালু করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিরাপদ পানি পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিক-সবাইকে পানির অপচয় রোধ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর পদেক্ষেপ নিতে হবে। সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
