Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

দুর্নীতির মরণফাঁদে কৃষক

কৃষি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

Advertisement

Icon

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি এবং এই খাতের প্রাণভোমরা হচ্ছেন আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমী কৃষকরা। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের নামে সরকারি প্রকল্পগুলো কীভাবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তার এক ভয়াবহ চিত্র সম্প্রতি উন্মোচিত হয়েছে। শনিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভিয়েতনাম থেকে খাটো জাতের নারিকেল চারা আমদানির নামে দেশে রীতিমতো এক মহাদুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল। এই প্রকল্পের ফাঁদে পড়ে আজ দেশের শত শত কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা সর্বস্বান্ত।

জানা যায়, ২০১৫ সালে কৃষকদের ফল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ১৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গবেষকদের সুস্পষ্ট আপত্তি ও সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও, কোনো ধরনের মাঠপর্যায়ের ট্রায়াল বা পরীক্ষা ছাড়াই ভিয়েতনাম থেকে এই খাটো জাতের নারিকেল চারাগুলো আমদানি করা হয়। গবেষকরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, এসব চারা রোগ ও পোকামাকড়ে আক্রান্ত এবং আমাদের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী নয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের কথায় কর্ণপাত না করে উলটো মাত্র দুই বছরের মাথায় সংশোধনী এনে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয় ২২৭ শতাংশ, যা ৬৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।

এখানেই অনিয়ম থেমে থাকেনি। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চারা আমদানির নিয়ম থাকলেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দেশীয় একটি অনুগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই চারাগুলো আনা হয়। শুধু তাই নয়, কৃষকদের মাঝে আড়াই লাখ চারা বিনামূল্যে বিতরণের বদলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বস্বান্ত কৃষকরা যখন নিজেদের ক্ষতিপূরণ ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে উলটো পুলিশি হয়রানি, গুমের হুমকি এবং মিথ্যা মামলার খক্ষ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।

এই পরিস্থিতিতে আমাদের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য বলে মনে করি আমরা। এই দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। এছাড়া যেসব কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা এই খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মামলা প্রত্যাহারসহ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষি খাতে যে কোনো বিদেশি জাতের বীজ বা চারা আমদানির ক্ষেত্রে দেশের মাটি ও আবহাওয়ায় তার উপযোগিতা যাচাইয়ে গবেষকদের মতামত ও পর্যাপ্ত ফিল্ড ট্রায়াল বাধ্যতামূলক করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দুর্নীতির মরণফাঁদে কৃষক

দুর্নীতির মরণফাঁদে কৃষক

প্রবীণদের শেষ জীবনের নিরাপত্তা

প্রবীণদের শেষ জীবনের নিরাপত্তা

সড়কে হামলা ও ছিনতাই, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন

সড়কে হামলা ও ছিনতাই, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন

মানসিক স্বাস্থ্য, চিকিৎসায় কেন এত অবহেলা?

মানসিক স্বাস্থ্য, চিকিৎসায় কেন এত অবহেলা?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম