মানসিক স্বাস্থ্য
চিকিৎসায় কেন এত অবহেলা?
Advertisement
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শারীরিক স্বাস্থ্যের চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্য কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শরীর ভালো মানেই কেউ স্বাভাবিক আচরণ করবে বা তার স্বাভাবিক জীবন থাকবে, এমন কোনো কথা নেই। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে একজন মানুষ অসুস্থ বটে। গতকাল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে যুগান্তর একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে এখন বয়স্কদের প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। এর চেয়েও বড় দুঃখজনক হলো, মানসিক রোগে আক্রান্তদের মাত্র ৮ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছে, বাকি ৯২ শতাংশের চিকিৎসা রয়ে যাচ্ছে অধরা। এটা বিশ্বাস করাও কঠিন যে, মানসিক রোগের চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে কেবল রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোয়। জেলা-উপজেলার চিত্র হচ্ছে, চিকিৎসা তো নেই-ই, রয়েছে ওষুধের সংকটও।
মানসিক স্বাস্থ্য এক বিস্তৃত প্রপঞ্চ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানে শুধু মানসিকভাবে রোগমুক্ত থাকা নয়। আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার সক্ষমতা এবং সামাজিক জীবনে অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা ইত্যাদিও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব শর্ত পূরণ করতে না পারলে কাউকে মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ বলা যাবে না। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণও অনেক। পারিবারিক বিশৃঙ্খলা থাকলে, কাজের চাপ বেশি হয়ে গেলে, আর্থিক অনিশ্চয়তা থাকলে মানসিকতার ওপর বড় আঘাত আসে। প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও ব্যবহারকারীর মানসিকতায় অস্বাভাবিকতা তৈরি করে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশে যাপিত জীবনে এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যে কারণে জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
আমরা একটা প্রশ্ন করতেই পারি, মানসিকভাবে অসুস্থদের চিকিৎসার বিষয়ে সরকারগুলোর এই উদাসীনতার হেতু কী? তবে কি মানসিক রোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই? মানসিক রোগীদের ৯২ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে থাকবে, এ কেমন কথা? আমরা চাইব, শুধু রাজধানী ও বিভাগীয় শহর নয়, সারা বাংলাদেশেই এই অসুস্থতার চিকিৎসা থাকবে। যুগান্তরের প্রতিবেদনে জনবল সংকটের কথাও বলা হয়েছে। এ খাতে কেন নিয়োগ হচ্ছে নয়, এ প্রশ্নের জবাব কী? স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ তো কম নয়। আমরা সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করতে চাই, মানসিক অসুস্থতার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসক, জনবল, ওষুধ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হোক। আমরা নাগরিক সম্প্রদায়কে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ দেখতে চাই। তাহলেই কেবল রাষ্ট্র জনশক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার করতে পারবে।
