Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ

ডাকাতচক্র দমনে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ

Advertisement

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমানে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রবাসফেরত রেমিট্যান্সযোদ্ধা কিংবা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সড়কগুলো বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। শুক্রবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে চুক্তিতে ভাড়ায় খাটছে একদল দুর্ধর্ষ ডাকাত। জানা যায়, পর্দার আড়ালে থাকা মূল মাফিয়া চক্রগুলো অধরা থেকে গেলেও ভাড়াটে ডাকাতরা খুব নিখুঁত ছকে তাদের অপারেশন পরিচালনা করছে। এ চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অপরাধ সংঘটনের পর এসব ভাড়াটে খুনি ও ডাকাত দ্রুত ঢাকা ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা বিদেশে পালিয়ে যায়। গ্রেফতার হলেও আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে তারা খুব দ্রুত মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

এ চক্রের সঙ্গে কিছু অসাধু আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ। ডাকাত চক্রটির মূলোৎপাটনে অবিলম্বে তৎপর হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, একজন প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে অর্থ আয় করেন, এর সঙ্গে শুধু জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিও। প্রতারণার মাধ্যমে এসব ব্যক্তিকে যখন হাতকড়া পরিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনা হয়, তখন তাদের মানসিক অবস্থা এবং সর্বস্বান্ত হওয়ার বেদনা বিবেকবান যে কারও মনে নাড়া দেওয়ার কথা। এ অপরাধ কেবল আর্থিক ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। একজন প্রবাসী যখন বিমানবন্দরে নেমেই অরক্ষিত বোধ করেন, তখন তা গোটা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার প্রতি আস্থার ঘাটতি তৈরি করে।

আমরা মনে করি, এই ভয়ংকর অপরাধ চক্রের মূলোৎপাটনে রুটিন অভিযান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বহুমুখী ও কঠোর পদক্ষেপ। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে কুড়িল, উত্তরা ও মহাখালী পর্যন্ত পুরো রুটটিতে সিসি ক্যামেরাসহ নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। কোনো স্থানে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কাউকে আটক বা তল্লাশি করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আসল পরিচয়পত্র ও দায়িত্বপ্রাপ্ত থানার অনুমোদন যাচাই করার পাবলিক প্রোটোকল বা হেল্পলাইন চালু করা দরকার। দুর্ধর্ষ ও পেশাদার অপরাধীদের জামিন পাওয়ার পথ সুগম করতে সহায়তাকারী অসাধু চক্র বা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাধ্যমে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেবল ভাড়াটে অপরাধীদের ধরে ক্ষান্ত না হয়ে পর্দার আড়ালে থাকা চক্রের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিদেশফেরত বা প্রবাসীদের বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা বা অফিশিয়াল সহায়তা ডেস্ক আরও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি।

ভুলে গেলে চলবে না, রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের রক্ত-ঘামের উপার্জনে আমাদের অর্থনীতি সচল থাকে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ এই অপরাধচক্রকে চিরতরে দমন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি অপারেটরের নাম প্রস্তাব

শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ বিদেশি অপারেটরের নাম প্রস্তাব

ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি প্রচার, যা জানা গেল

ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি প্রচার, যা জানা গেল

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতি, ভয়ংকর তথ্য দিল গোয়েন্দারা

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতি, ভয়ংকর তথ্য দিল গোয়েন্দারা

আরও পড়ুন

বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ

বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ

আট হাজার ডাকঘর

আট হাজার ডাকঘর

আলোচনায় রিকনসিলিয়েশন

আলোচনায় রিকনসিলিয়েশন

মূল্যস্ফীতিতে জ্বালানির দামের প্রভাব

মূল্যস্ফীতিতে জ্বালানির দামের প্রভাব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম