Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

আলোচনায় রিকনসিলিয়েশন

প্রয়োজন সত্য স্বীকার ও ন্যায়বিচার

Advertisement

Icon

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

যে কোনো দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আলোচনায় আসে জাতীয় পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই পুনর্মিলনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। বলা বাহুল্য, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট গভীর ক্ষত ও সামাজিক বিভাজন কাটিয়ে একটি শাসনযোগ্য ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন অনেকে। কিন্তু বাংলাদেশের রূঢ় বাস্তবতায় সেই কাক্ষিত পুনর্মিলনের পথটি কতটা মসৃণ, তা নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক মহলে যৌক্তিক সংশয় রয়েছে। বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে, দেশের বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, বিশ্লেষক এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা জাতীয় স্বার্থে রিকনসিলিয়েশনের আবশ্যকতা স্বীকার করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এর তাৎক্ষণিক কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। এর প্রধান কারণ হলো, পতিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অতীতের গুম, খুন, লুটপাট ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের দায় স্বীকার না করা এবং ন্যূনতম অনুশোচনা প্রকাশের পরিবর্তে উলটো দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখা।

উল্লেখ্য, রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলন কখনোই অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো কৌশল হতে পারে না। সমকালীন বিশ্বে এ বিষয়টির ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ কিংবা রুয়ান্ডার গাকাকা আদালতের অভিজ্ঞতা বারবার সামনে আসে। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর নুরেমবার্গ ট্রায়ালের দৃষ্টান্তও এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। বিশ্বের প্রায় চল্লিশটি দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সফল রিকনসিলিয়েশনের মূল ভিত্তিই হলো সত্য উদ্ঘাটন, অপরাধের অকপট স্বীকারোক্তি, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি ও বিচার। দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিশোধের বদলে ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ঠিকই; কিন্তু তা ছিল পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ এবং অপরাধীদের অনুতপ্ত হওয়ার শর্তসাপেক্ষে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যদি প্রকৃত অর্থেই একটি টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতা ও পুনর্মিলন ঘটাতে হয়, তবে সবার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিগত শাসনামলের মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ড, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন এবং ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের নির্দেশদাতা ও সহযোগী ছিলেন, তাদের আইনের মুখোমুখি করা ছাড়া কোনো পুনর্মিলনই জনগণ মেনে নেবে না।

এটা ঠিক, একটি জাতি অনন্তকাল ধরে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের চক্রে আবদ্ধ থাকতে পারে না। এক দল ক্ষমতায় এসে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকলে এই দেশকে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই একদিকে যেমন শীর্ষ অপরাধীদের কঠোর বিচার করতে হবে, তেমনি নিষিদ্ধ দলটির তৃণমূলের যেসব সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থক কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ড বা দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না, তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ফিরে আসার একটি সম্মানজনক পথও খোলা রাখতে হবে। এই জটিল কাজটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ও বিজয়ী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রজ্ঞা ও উদারতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। তবে তার আগে, আওয়ামী লীগকেই নিজেদের ঐতিহাসিক ভুলগুলো অনুধাবন করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আলোচনায় রিকনসিলিয়েশন

আলোচনায় রিকনসিলিয়েশন

মূল্যস্ফীতিতে জ্বালানির দামের প্রভাব

মূল্যস্ফীতিতে জ্বালানির দামের প্রভাব

বিমানের মহাপরিকল্পনা

বিমানের মহাপরিকল্পনা

ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ

ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম