Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

বিমানের মহাপরিকল্পনা

উন্নয়নের সমান্তরালে চাই পরিচালনা সক্ষমতা

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানের মহাপরিকল্পনা

Advertisement

আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে নিজস্ব অংশীদারত্ব পুনর্দখল এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণের এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বুধবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে পরিচালিত সংস্থাটি বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহরের আকার ৬৪-তে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহণের বিশাল সম্ভাবনা বিবেচনায় বহর সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে আসল চ্যালেঞ্জ হলো সংগৃহীত উড়োজাহাজগুলোকে নিরাপদ, দক্ষ ও লাভজনকভাবে আকাশে সচল রাখা। বিদ্যমান সীমিত বহর পরিচালনাতেই বিমান বর্তমানে যে ধরনের চরম কারিগরি সংকট, জনবল ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে উপযুক্ত রোডম্যাপ ছাড়া এই মহাপরিকল্পনার সফলতা নিয়ে সংশয় থেকে যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকট, প্রকৌশলী ও কারিগরি দল গঠনের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স সুবিধার অভাবে ভুগছে। এমনকি দূরবর্তী আন্তর্জাতিক স্টেশনগুলোতে নিজস্ব কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য ত্রুটির কারণেও উড়োজাহাজ আটকে থাকছে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে স্পষ্ট দেখা গেছে-ডিজিটাল ব্যবস্থার অভাব, হ্যাঙ্গার থেকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের শারীরিক দূরত্ব এবং আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতির মতো প্রাথমিক অবকাঠামোগত দুর্বলতা দিয়েই চলছে বর্তমান পরিচালন কার্যক্রম। এমন এক পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা হলে তা এয়ারলাইন্সের জন্য কার্যকর সুবিধার বদলে বহুমুখী প্রশাসনিক ও পরিচালনগত বিপর্যয় ডেকে আনবে কিনা, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রটি হলো প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি ও রুট ব্যবস্থাপনার কৌশলগত অদূরদর্শিতা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যেখানে বিমানে অন্তত ৩০০ পাইলট প্রয়োজন, সেখানে কর্মরত আছেন ২১৮ জনের মতো। সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পর উড়োজাহাজের বহর ৬৪-তে পৌঁছালে পাইলট ও কেবিন ক্রুর চাহিদা বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বাড়বে। অথচ এভিয়েশন খাতে বৈশ্বিক পাইলট সংকটের এ সময়ে দেশের ভেতরের প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিকায়ন করার মতো বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। যদি বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, তাহলে বিমানের পরিচালন ব্যয় নিঃসন্দেহে হবে আকাশচুম্বী। এছাড়া বিশ্বমানের স্পোক-হাব মডেল, আঞ্চলিক ইন্টারলাইন এবং বৈশ্বিক কোডশেয়ার চুক্তির মতো আধুনিক কৌশল প্রয়োগ করা না গেলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনাই বিমানের জন্য বিশাল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আমরা মনে করি, বহর সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনাকে অর্থবহ করতে হলে বিমান কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে পরিচালনা সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দক্ষ পাইলট, প্রকৌশলী ও মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ান নিয়োগ ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দরগুলোয় যাত্রীদের সুবিধার্থে আধুনিক হ্যাঙ্গার, দ্রুতগতির গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিমানের মহাপরিকল্পনা

বিমানের মহাপরিকল্পনা

ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ

ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদ

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার

কারিগরি শিক্ষার ৩২৯ স্বপ্ন

কারিগরি শিক্ষার ৩২৯ স্বপ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম