কারিগরি শিক্ষার ৩২৯ স্বপ্ন
ধীরগতির বেড়াজালে সমৃদ্ধির সম্ভাবনা
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল একটি যুগান্তকারী প্রকল্প-‘৩২৯ উপজেলায় কারিগরি স্কুল-কলেজ স্থাপন’। ২০ হাজার ৫২৫ কোটি টাকার এ বৃহৎ উদ্যোগটি ছিল উপজেলা পর্যায়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার এক সম্ভাবনাময় পথরেখা। কিন্তু ছয় বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১ শতাংশে। নতুন করে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। দক্ষতার আলো ছড়ানোর যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা এখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দায়িত্বহীনতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে নিভুনিভু করছে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যালোচনায় যে চিত্র উঠে এসেছে, তা খুবই হতাশাজনক। নমুনা হিসাবে দেখা ১০টি ঠিকাদারি প্যাকেজের একটিও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি; অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারের জনবল ও যন্ত্রপাতির ভয়াবহ ঘাটতি ছিল। তাছাড়াও শুরু থেকে এ পর্যন্ত আটজন কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘনঘন পিডি পরিবর্তন এবং ধারাবাহিক তদারকির অভাব প্রমাণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিকতার কতটা ঘাটতি ছিল। মৌজা রেটের চেয়ে কম মূল্যে জমির দাম নির্ধারণ এবং ভূমি অধিগ্রহণে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের ধীরগতি প্রকল্পের গতিকে শুরুতেই স্থবির করে দেয়।
শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ভিত্তি। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। সেখানে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে এত ধীরগতি স্পষ্টতই রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ও সময় অপচয়ের শামিল।
এখন কেবল মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়েই দায় শেষ করা যাবে না। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী যেসব ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রেখেছে, তাদের চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করতে হবে। কাজের একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সদিচ্ছা ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে বাকি ৮৯ শতাংশ কাজ শেষ করা কঠিন। বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার অন্যতম ভিত্তি দক্ষ তরুণ জনশক্তি। দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটুক-কারিগরি শিক্ষার আলোর প্রদীপ যেন কাগজে আটকে না থেকে বাস্তবে আলো ছড়ায়।
