ঢাকার যানজট নিরসনের উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তাগিদ সাধুবাদযোগ্য
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর ভয়াবহ যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ঢাকায় অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক বা ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর যে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগরের ইনার সার্কুলার রিং রোডের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিরসন করা, সংস্থাগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় আন্তঃসমন্বয় গড়ে তোলা এবং দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বলা বাহুল্য, প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় অবস্থান দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তার নির্দেশক।
অনস্বীকার্য যে, ঢাকার যানজট আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মঘণ্টা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এক বিশাল হুমকি সৃষ্টি করছে। কর্মঘণ্টার অপচয় সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায়, ঢাকার কেন্দ্রস্থলের ওপর যানবাহন ও যাত্রী চলাচলের অতিরিক্ত চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প সময়মতো ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপন্থা ও কৌশল অবলম্বন করাও জরুরি। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো যেমন স্বচ্ছ নীতিমালার অধীনে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন, তেমনি আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণে যাতে এই মহাসড়কের কাজ কোনোভাবেই স্থবির হয়ে না পড়ে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে কাজের প্রতিটি ধাপের জন্য একটি নিজস্ব তদারকি কমিটি গঠন করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
অবশ্য ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল আধুনিক সড়ক অবকাঠামোর দিকে নজর দিলেই চলবে না, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পথিমধ্যে থাকা জলাশয়, নদী ও সবুজ বেষ্টনী রক্ষা করে তবেই টেকসই প্রকৌশলবিদ্যায় প্রকল্পটির রূপায়ণ ঘটানো উচিত। পাশাপাশি ইনার রিং রোডের সঙ্গে ঢাকার বিদ্যমান গণপরিবহণ ব্যবস্থা, মেট্রোরেল ও নৌপথের একটি চমৎকার বহুমুখী সংযোগ বা মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব তৈরি করতে পারলে সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল দ্রুততম সময়ে পেতে শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা নগরীকে একটি আধুনিক ও গতিশীল মেগাসিটিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করি আমরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি এই নির্দেশনা নিষ্ঠা, সততা ও সুশাসনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবে রূপদান করেন, তাহলে অচিরেই নগরবাসী যানজটমুক্ত এক নতুন ঢাকা দেখতে পাবে। জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবং দেশে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এই মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কাম্য।
