স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত প্রশাসক
নির্বাচনগুলো দ্রুতই সম্পন্ন করতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের স্থানীয় সরকারগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা। এটাই নিয়ম। দেশের অন্তত ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ সামনের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নির্বাচিতদের পদ হারানোর কথা। ওদিকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচন থেকে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন হতে হবে। তা যেহেতু হয়নি, তাই এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বভার চলে যাচ্ছে অনির্বাচিতদের হাতে। দেশের তৃণমূলের নাগরিকরা তো আর সেবাবঞ্চিত থাকতে পারেন না! ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ জন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা, আবার দলীয় নেতাকর্মীও। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের দেবেন নাগরিক সেবা। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়, নির্বাচন না হওয়ায় অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যেমন-সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতেও দীর্ঘদিন থেকে নিয়োগকৃত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই এ ধারা অব্যাহত আছে।
বলা বাহুল্য, যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়া এবং অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো, জনগণ যাকে চাইবে, তারাই সরকার অথবা স্থানীয় সরকার পরিচালনা করবেন। জনগণের ভাগ্য কারা নির্ধারণ করবেন, তা ঠিক করবেন জনগণই। অনির্বাচিতরা নির্বাচিতদের মতো জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়ন নাও করতে পারেন। অনির্বাচিতদের দ্বারা পরিচালিত স্থানীয় সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় অগ্রাধিকার ঠিকমতো চিহ্নিত করতে নাও পারে। ফলে কোন নির্বাচন কখন করতে হবে, আইনে তা স্পষ্ট করা আছে। যদি ওই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করা না যায়, তাহলে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন করতে হয়। বাস্তবতা প্রতিকূল থাকায় যেহেতু নিয়মমাফিক নির্বাচন করা হয়নি, আমরা চাইব যতটা সম্ভব দ্রুত স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো যেন অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট আন্তরিক হতে হবে।
