আট হাজার ডাকঘর
শুধুই স্মৃতিবাহী স্থাপনা?
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একটা সময় ছিল, যখন আমাদের অন্যতম স্বজন ছিলেন ডাকপিয়ন। দরজায় তার কড়া নাড়া শুনলেই আমরা রোমাঞ্চিত হতাম অথবা তিনি নিঃশব্দে রেখে যেতেন যখন চিঠিটি দেওয়ালে ঝোলানো বাক্সে, সেই বাক্স খুলতেই আমরা পুলকিত হতাম। কখনো কখনো সুসংবাদের জন্য তাকে বকশিশও দিতাম। চিঠির পাশাপাশি ডাকপিয়ন নিয়ে আসতেন মানিঅর্ডারের টাকা অথবা চাকরির নিয়োগপত্র।
আদালতের নোটিশও আসত ডাকবিভাগের পিয়নের মাধ্যমে। সেই যুগ এখন আর নেই। ডাকপিয়নের চাকরিটি নিয়েছে এখন ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন। সেখানে হাতে লেখা চিঠির বদলে টাইপ করি টেক্সট, মানিঅর্ডারের পরিবর্তে বিকাশ-নগদ কিংবা অন্য কোনা অনলাইন ট্রান্সফারে পাঠাই টাকা।
যাবতীয় কাজই এখন সারছি মোবাইল সেটের মাধ্যমে। ফলে ডাকবিভাগ এখন শুধু ইতিহাস যেন। যুগান্তরের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে, ডাকঘরগুলো যেন মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছে। কোনো কোনো ডাকঘরে তালাও ঝুলতে দেখা গেছে। আবার কোথাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশির ভাগই অনুপস্থিত, কারণ তাদের অনেকে অন্য পেশার সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। সেবা নিতেই বা আসেন কজন!
প্রশ্ন উঠতেই পারে, ডাকঘরগুলো যদি জনকল্যাণে না আসতে পারে, তাহলে এসবের কী দরকার! আসলে প্রযুক্তি যত দ্রুত উৎকর্ষ লাভ করছে, সেই অনুপাতে আমাদের প্রজ্ঞা বাড়ছে না। ডাকঘরগুলোর গণমুখী সংস্কার করলেই কেবল সেগুলো বর্তমান সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের খুঁজে বের করতে হবে প্রযুক্তির সুবিধা ডাকঘরগুলোর মাধ্যমে কীভাবে তৈরি করা যায়।
ডাকবিভাগের স্থাপনা এবং এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমান যুগে এক বড় সুযোগের উৎস হতে পারে বৈকি। অথচ এ প্রতিষ্ঠানের সেবাদান প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে একদিকে, অন্যদিকে এর পরিচালন ব্যয় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হচ্ছে। এর অপর নাম অপচয়। দেশের কুরিয়ার সার্ভিসগুলো মানুষকে যে সেবা দিচ্ছে, ডাকঘরগুলো সেটাও দিতে পারছে না। অথচ ডাকবিভাগ হতে পারে দেশের প্রধান সরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিষ্ঠান। দেশের আট হাজার ডাকঘর এবং প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর পরিচালন ব্যয়কে অর্থবহ করে তুলতে হবে অবশ্যই। তা না করা গেলে ডাকঘরগুলো কেবল স্মৃতিবাহী প্রতিষ্ঠান হয়েই পড়ে থাকবে।
