Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

সড়কে হামলা ও ছিনতাই

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন

Advertisement

Icon

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

প্রাইভেটকারের গতিরোধ এবং আরোহীদের গুলি করে দুর্বৃত্তরা যেভাবে দুই বস্তা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, তা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিই নির্দেশ করে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, এজেন্টের কাছ থেকে মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিকাশের তিন কর্মী চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে করে শ্রীপুরের মাওনা যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। তারা কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত এলাকায় পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গাড়ির গতিরোধ করে কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা ক্যাশ ম্যানেজারের পেটে গুলি চালিয়ে এবং অন্যদের মারধর করে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকাভর্তি দুটি বস্তা নিয়ে পালিয়ে যায়। স্বভাবতই এ ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছিনতাইয়ের ধরন ও কৌশল পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে এ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এত বড় অঙ্কের নগদ টাকা পরিবহণে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশি সহায়তা নেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অসচেতনতা ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। তবে নাগরিক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাবধানতাকে অজুহাত বানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজেদের মূল দায়-অঞ্চলজুড়ে কার্যকর টহল ও অপরাধ দমন থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অস্ত্রধারী অপরাধীদের তৎপরতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে রাতে, বিশেষত নির্জন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে বলা চলে। যদি ১৫টি মোটরসাইকেলে চড়ে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অবাধে ছিনতাই করে কোনো এলাকার সড়ক দাপিয়ে পালিয়ে যেতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা কোথায়? এ ধরনের ঘটনা কেবল ব্যবসায়ী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই প্রভাব ফেলে না, বরং দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সরকারকে অবশ্যই এ দিকটিতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। শুধু মুখের কথায় নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীদের কঠোর বার্তা দিতে হবে। প্রথমত, শ্রীপুরের এ ডাকাতির ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে ছিনতাইকৃত অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে, যাতে দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধ হওয়ার সুযোগ না পায়। তৃতীয়ত, ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ পরিবহণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করা প্রয়োজন।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে জনমনে স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সড়কে হামলা ও ছিনতাই

সড়কে হামলা ও ছিনতাই

মানসিক স্বাস্থ্য

মানসিক স্বাস্থ্য

বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ

বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ

আট হাজার ডাকঘর

আট হাজার ডাকঘর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম