Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই বড় বিষয়

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

Advertisement

সম্প্রতি বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধে জড়ালে দলের নেতাকর্মী, সংসদ-সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বলা বাহুল্য, এমন বক্তব্য দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের আশার সঞ্চার করে। দেশবাসী যখন একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশের স্বপ্ন দেখছে, তখন সরকারপ্রধানের এ অবস্থান জনমনে স্বস্তি নিয়ে আসার কথা।

তবে বিশিষ্টজনরা প্রধানমন্ত্রীর এ বার্তাকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকের মতে, চাঁদাবাজি বা দখলদারি মূলত ফায়দাভিত্তিক রাজনীতির উপসর্গ মাত্র। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা লাভ এবং অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন শিকড় গেড়ে রয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীরা সহজেই নিজেদের আড়াল করতে সক্ষম হয়। তাই শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করলে চলবে না, এই কলুষিত রাজনীতির মূলোৎপাটন করতে হবে। দলীয় কাঠামোর ভেতরে এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে নীতিহীন ব্যক্তিস্বার্থের কোনো স্থান থাকবে না। নাগরিক ঐক্যের সভাপতির আশঙ্কাও অমূলক নয়। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী বারবার সতর্ক করলেও দলের একটি অংশের মধ্যে তা মেনে চলার প্রবণতা এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি।

এ প্রেক্ষাপটে টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের পরামর্শটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, শুধু দলীয় বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয়; বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলমতনির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ‘এবার আমাদের পালা’-এমন মানসিকতা দলের একাংশের মধ্যে যে দখলবাজি ও দলবাজির জন্ম দিয়েছে, তা সরকার ও দল উভয়ের জন্যই বিব্রতকর। তাই যারা এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের হাতে সোপর্দ করার কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক যে কোনো রাজনৈতিক দলকে আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কারের যে মত দিয়েছেন, তা যথার্থ। আমরাও মনে করি, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখতে না পারলে সমাজের অন্যান্য স্তরের দুর্বৃত্তদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে অবশ্যই দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বস্তুত, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে যদি এই সতর্কবার্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলেই দেশে সত্যিকার অর্থে একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর হুঁশিয়ারির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে একটি টেকসই সংস্কারের সূচনা ঘটবে, এটাই প্রত্যাশা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

এলপিজি সংকট

এলপিজি সংকট

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা

পানিতে মলের জীবাণু

পানিতে মলের জীবাণু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম