বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার নিম্নমান
দ্রুত উত্তরণের পদক্ষেপ নিতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের আকাশপথের প্রধান প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলি সংকট, লাগেজ চুরি-ইত্যাদি অভিযোগ নতুন নয়।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফ্লাইট অবতরণের ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে প্রথম লাগেজ এবং সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটের মধ্যে শেষ লাগেজ পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় এক থেকে দেড় ঘণ্টা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার শ্লথগতি এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অব্যবস্থাপনা। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতাও লক্ষণীয়। এ বাস্তবতায় সম্প্রতি স্কাইট্র্যাক্সের রেটিংয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘টু-স্টার’ প্রাপ্তি জাতির জন্য লজ্জাজনক।
একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রথম পরিচয় ফুটে ওঠে তার বিমানবন্দরে। অথচ শাহজালাল বিমানবন্দরের ভঙ্গুর সেবা বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসীদের মনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে। এটি ঠিক, টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন।
প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৬ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও ব্যস্ত সময়ে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল, সরঞ্জাম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বিমানবন্দরে অনুপস্থিত। বিশেষ করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো মোটা অঙ্কের ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের অভিযোগ সেবার নিম্নমানেরই ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল রানওয়ে বা অবকাঠামোগত বড় বড় প্রকল্প দিয়ে বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর সমন্বয়, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কিছু উদ্যোগের কথা জানালেও তা কেবল জোড়াতালির পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। যাত্রীসেবার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রলি সংকট দূর করতে দ্রুত নতুন ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জনবল ঘাটতি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিমানবন্দরের সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে না পারলে দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হোঁচট খাবে। তাই যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
