Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

এই শ্বেতপত্র কতটা যৌক্তিক?

Advertisement

Icon

জিয়া আহমেদ

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এই শ্বেতপত্র কতটা যৌক্তিক?

Advertisement

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের নামে প্রকাশিত শ্বেতপত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শাবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যানারে কিছু মানুষ প্রচারে নেমেছে। বর্তমান উপাচার্যের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই এবং প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমি জড়িত নই।

তবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শাবিপ্রবির প্রায় ৩০ বছরে যতজন উপাচার্য এসেছেন, তাদের মধ্যে প্রফেসর ফরিদ উদ্দীন আহমেদ একজন অন্যতম ডায়নামিক। তিনি উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন দু’বছর অতিক্রান্ত হল। এ দু’বছরে অবকাঠামোগত কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলেও গতি সঞ্চার হয়েছে অনেক একাডেমিক প্রক্রিয়ায়। একাডেমিক সংস্কারে আমরা অনেকেই খুশি হয়েছি, আবার অনেকে মুখ কালোও করেছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেহেতু জনগণের টাকায় পরিচালিত, তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন একের পর এক ধাপ পেরিয়ে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়।

শাবিপ্রবির উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব হবে, অবশ্যই তা সময়সাপেক্ষ, রাতারাতি সম্ভব নয়। এর আগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয় নানা সমস্যা নিয়ে লিখেছি, বর্তমান উপাচার্য চেষ্টা করছেন সব সমস্যা সমাধানের। একটা মহল সর্বদাই সক্রিয় থাকে সমালোচনা কিংবা পেছনে লাগার, যখন তারা দেখে উন্নয়নের প্রক্রিয়াগুলো তাদের পক্ষে যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নের পর থেকে আজ পর্যন্ত একসঙ্গে এত বিশাল অঙ্কের প্রকল্প আসেনি, যা সম্ভব হয়েছে বর্তমান উপাচার্যের আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে আঘাত পড়লেই অনেকে উপাচার্যবিরোধী হয়ে যান এবং নতুন সুযোগসন্ধানীরা তখন মৌচাকের দিকে আগ বাড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৩০ বছর বয়স হওয়ার পরও অনেক সমস্যায় জর্জরিত ছিল। বর্তমান উপাচার্য তার প্রশাসনিক দক্ষতা দ্বারা সেটা অনেকটাই দূর করেছেন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট পাওয়ার ব্যাপারে। রেজাল্টের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেক অল্প সময়ে সম্পাদিত হচ্ছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে যাচ্ছে। পরিবহন সমস্যা অনেকাংশে কমেছে; যতটুকু সমস্যা আছে তা অল্পদিনের মধ্যেই দূর হয়ে যাবে।

শ্বেতপত্রটি এমন এক সময় প্রকাশ করা হল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অনেক বড় প্রকল্প, সমাবর্তন এবং ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কুচক্রী মহল চাচ্ছে সব প্রক্রিয়া বানচাল করতে। মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন উপাচার্যের নামে ইউজিসি তদন্ত করছে। আমি জানি না এর মধ্যে শাবিপ্রবির উপাচার্য আছেন কিনা। যদি থেকে থাকেন তবে আমার ধারণা শ্বেতপত্রে প্রকাশিত খবরগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হবে।

শুধু তদন্তই নয়, ইউজিসি চাইলে শাবিপ্রবিতে একটা জরিপ চালাতে পারে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করবে এবং নাম প্রকাশ ছাড়া তাদের মতামত দেবে। আমার ধারণা অধিকাংশই পজিটিভ মতামত দেবে। কারণ তারা চায় বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক। দেশের কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চলমান অস্থিরতা চলছে তা অনেকদিন ধরেই। কিন্তু বিগত ২ বছরে শাবিপ্রবিতে কোনোরকম ছাত্র সংঘাত, কোন্দল, একাডেমিক স্থবিরতা ইত্যাদি দেখা যায়নি। কারণ উপাচার্য শুরু থেকেই একটা স্পষ্ট ও স্বচ্ছ অবস্থায় আছেন।

কবিগুরু লিখেছেন, ‘বস্তুত নিন্দা না থাকিলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কী থাকিত? একটা ভালো কাজে হাত দিলাম, তাহার নিন্দা কেহ করে না, সে ভালো কাজের দাম কী! তেমনি পরনিন্দা সমাজের কণায় কণায় যদি মিশিয়া না থাকিত তবে নিশ্চই একটা বড়ো রকমের অনর্থ ঘটিত!’ তাই উপাচার্যের উচিত এসব বেনামি শ্বেতপত্রকে তোয়াক্কা না করে এগিয়ে যাওয়া। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে আছেন, তাদের উচিত উপাচার্যের উন্নয়নের সহযাত্রী হওয়া। দেশজুড়ে শাবিপ্রবির একটি সুনাম আছে, সেই সুনাম যুগ যুগ অক্ষত থাকুক। উপাচার্য তার বাকি মেয়াদে অসমাপ্ত কাজগুলো যেন দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পাদন করতে পারেন, সেই আশা ব্যক্ত করছি।

জিয়া আহমেদ : সহকারী অধ্যাপক, জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ, শাবিপ্রবি

[email protected]

Advertisement

শ্বেতপত্র

Advertisement

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা

পানিতে মলের জীবাণু

পানিতে মলের জীবাণু

দুর্নীতির মরণফাঁদে কৃষক

দুর্নীতির মরণফাঁদে কৃষক

প্রবীণদের শেষ জীবনের নিরাপত্তা

প্রবীণদের শেষ জীবনের নিরাপত্তা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম