পরিচালন মুনাফা নিয়ে নয়ছয়
ব্যাংকগুলোর এ প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রচলিত নিয়মের আওতায় সুদ আদায় না করেও সেগুলো আয় খাতে দেখানোসহ ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণকে নিয়মিত হিসাবে দেখানোর প্রক্রিয়া অনভিপ্রেত। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফায় ‘শুভংকরের ফাঁকি’ দেওয়ার প্রবণতা উদ্ঘাটিত হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। ব্যাংকগুলো তাদের পরিচালন মুনাফা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখাতেই নাকি পছন্দ করে। তবে এর ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হন, এ বিষয়টিও তাদের মাথায় রাখা উচিত। ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা থেকে করপোরেট কর প্রদান, মূলধন, প্রভিশন সংরক্ষণ ইত্যাদির পর যে নিট মুনাফা থাকে, তা থেকেই মূলত লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়। দেখা যায়, অনেক ব্যাংক মোটা অঙ্কের পরিচালন মুনাফা করলেও এসব দায় মিটিয়ে নিট মুনাফা বলতে গেলে থাকেই না বা কম থাকে। ফলে সঙ্গত কারণেই লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয় না। এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা প্রকাশ থেকে বিরত থাকাটাই সঙ্গত হবে বলে মনে করি আমরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর আয়ের বড় অংশই আসে সুদ খাত থেকে। এর বাইরে আয় যা হয়, তার পরিমাণ খুবই কম। দেখা গেছে, ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিট সুদ আয় বেড়েছিল সাড়ে ৯ শতাংশ। তবে ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে এ খাতে আয় তো বাড়েইনি; উপরন্তু তা হ্রাস পেয়েছে। করোনাজনিত কারণে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ব্যাংকগুলোর ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করা হয়েছে, যা চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্নভাবে বহাল থাকবে। ফলে গত বছর ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে নগদ কোনো সুদ আদায় করতে পারেনি, তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য আলোচ্য সময়ে সুদবহির্ভূত খাত থেকে ব্যাংকগুলোর আয় বেড়েছে। উল্লেখ্য, সুদবহির্ভূত খাত থেকে ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে ব্যাংকগুলোর আয় বেড়েছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ আর ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে এটি বেড়েছে সাড়ে ২৪ শতাংশ। তারপরও যে ব্যাংকগুলোর মোট আয় কমেছে, পরিসংখ্যানই তা বলে দিচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে ব্যাংকগুলোর মোট আয় কমেছে অন্তত আড়াই শতাংশ।
দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রোধ করা না গেলে ব্যাংক খাতের ওপর থেকে মানুষের আস্থা চলে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থা যদি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারের কাজটি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, যা কোনোমতেই কাম্য নয়।
