থামছেই না চাঁদাবাজি
তবে কি এর কোনো শেষ নেই?
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদাবাজির মাত্রা এত বেড়েছে যে, কারও কারও কাছে তা অবিশ্বাস্য মনে হয়। চাঁদাবাজির পৌনঃপুনিকতাও উদ্বেগজনক। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদা না দেওয়ায় খুলনার সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় এক রাউন্ড গুলিও চালিয়েছে তারা। একই রাতে নগরীর টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরের সামনে সনাতন ধর্মের এক দোকানিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এ দুই ঘটনায় সমগ্র খুলনা নগরীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা এত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন যে, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে চাইছেন না। আমাদের স্মরণ আছে, কিছুদিন আগে খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা রাস্তায় বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক এবং দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য কতটা বাড়লে পুলিশ সদস্যদেরও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, তা সহজেই বোধগম্য।
এটা কোনো কথা হতে পারে না যে, কয়েকজন দুর্বৃত্ত একত্র হয়ে যা খুশি তা-ই করতে পারে। বিগত আওয়ামী শাসনামলে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এর মাত্রা ও পরিমাণ বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল যে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কারও করেছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলোর মূল নেতৃত্ব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তৃণমূল পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নতি করা যাচ্ছে না। আবার দলের নাম ভাঙিয়েও দুর্বৃত্তরা চাঁদাবাজি করে চলেছে। এ অবস্থায় বিশেষত ব্যবসায়ী সম্প্রদায় সর্বদাই আতঙ্কের মধ্যে থাকছেন, তাদের কাছেও যদি চাওয়া হয় চাঁদা! সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠান, কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের ওপর হামলা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। সরকারকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে অবশ্যই। সরকারকে ভাবতে হবে, চাঁদাবাজির কারণে অনেকে দেশে বিনিয়োগ করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও দেশের এই পরিস্থিতিতে কতটা বিনিয়োগ করতে চাইবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ফলে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিককে চাঁদাবাজির কবল থেকে মুক্ত এবং বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
