সাইবার সুরক্ষায় সক্ষমতা
সাইবার হুমকিকে গুরুত্ব দিতে হবে
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে সরকারি-বেসরকারি সাইটে সাইবার হামলার হুমকি কিংবা সরাসরি হামলার ঘটনা নতুন নয়। পরিতাপের বিষয়, এক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার পেতে আমরা দেখিনি। বরং এমন আশঙ্কা দেখা দিলে বড়জোর বন্ধ করে দেওয়া হয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এসব ওয়েবসাইট, বন্ধ থাকে ডিজিটাল সেবা। বলা বাহুল্য, এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা এবং একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, বছরের পর বছর নানা প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা সত্ত্বেও একটি কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা যে এখনো গড়ে ওঠেনি, এই ঘটনা তা নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালুর সক্ষমতার বদলে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখাকে প্রধান কৌশল বানানোর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষার নাজুক চিত্রটিই ফুটে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধরন বদলে যাবে এবং সেখানে যুক্ত হবে সাইবার ওয়ারফেয়ার। সেই পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন করা অপরিহার্য। এমন বাস্তবতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাসমূহ কেবল সতর্কবার্তা জারি করেই দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কারিগরি দক্ষ জনবল নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া আশাব্যঞ্জক হলেও, সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় সর্বাধুনিক সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) ও নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করা দরকার।
কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দিলেই সার্বিক ডিজিটাল সেবা সচল রাখার বিকল্প ব্যবস্থা না করে সাইবার স্পেস পুরোপুরি অচল করে দেওয়া কোনো পেশাদার বা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এই প্রবণতা সাধারণ নাগরিকদের সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার পাশাপাশি রাষ্ট্রের ডিজিটাল কাঠামোর নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় কেবল প্রকল্প গ্রহণ বা সরঞ্জাম কেনার মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সাইবার সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ এবং নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবে-এটাই প্রত্যাশা।
