ছিনতাইয়ের নব নব কৌশল
পুলিশের কোনো কৌশল নেই?
Advertisement
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ছিনতাই-ডাকাতি কি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়ে গেছে? প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ডাকাতি অথবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। কক্সবাজারে এমনও ঘটেছে, এক অপারেশনে প্রায় ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি করে যাত্রীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে গেছে ডাকাতরা। ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে নিত্যনতুন কৌশল। কখনো চলন্ত গাড়ি থেকে হ্যাঁচকা টানে হাতের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কখনো মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে কাবু করা হচ্ছে ভিক্টিমকে। অবশ্য এসব পদ্ধতি এখন পুরোনো হয়ে গেছে। ছিনতাইয়ের নতুন পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে সুতা-ডাকাতি। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোয় এই পদ্ধতিতে কামিয়াব হচ্ছে ছিনতাইকারী অথবা ডাকাতরা। রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করতে রাস্তায় টানিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রায় অদৃশ্য নাইলনের শক্ত সুতা। দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের চালক কোনো কিছু বোঝার আগেই ওই সুতায় আটকে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। দুর্ঘটনায় পড়ছে চালক। আর ঠিক এই সময়েই ওতপেতে থাকা ছিনতাইকারীরা দ্রুত ছুটে এসে আহত চালকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে ল্যাপটপ, মোবাইল, মানিব্যাগ। এরপর দ্রুতই সটকে পড়ছে তারা। কয়েকদিন ধরে এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনার পর ফ্লাইওভারগুলো হয়ে পড়েছে এক আতঙ্কের যাত্রার নাম। ফ্লাইওভারে সড়ক বাতি না জ্বললে ছিনতাইকারীদের জন্য তো সেটা পোয়াবারো।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে নতুন নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করছে অপরাধীরা, এভাবে রাজধানীর অপরাধ দূর হতে আর কত সময় লাগবে? ফ্লাইভারগুলোয় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে অথবা নিরাপত্তা জোরদার করে না হয় এই পদ্ধতি রোধ করা গেল, পরের উদ্ভাবন সামাল দেবে কে? উত্তরটা তাই, রাজধানী থেকে অপরাধ দূর করতে হলে অপরাধীমুক্ত করতে হবে প্রথমে। অপরাধীমুক্ত রাজধানী মানেই সেটা অপরাধমুক্ত রাজধানী। এটা খুবই আশঙ্কার কথা যে, অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজ যারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, কাল তারা হয়ে উঠবে বড় অপরাধী। ফলে রাজধানীকে অপরাধমুক্ত করতে নিতে হবে ক্রাশ প্রোগ্রাম। প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে তাদের, অতঃপর নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। অপরাধীর কৌশলের কাছে হার না মেনে পালটা কৌশলে পরাস্ত করতে হবে তাদের।
