ফুল নিয়েও অসৎ বাণিজ্য!
শুরুটা করেন কৃষক, বিনিময় কতটা?
Advertisement
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৃথিবী কি কখনো হাসে? পৃথিবী হাসে, এবং সেই হাসি পায় তার, যখন সে ফুল দেখে, ফুলের সুবাস নেয়। বলা হয়, গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সে একইরকম সুগন্ধ ছড়াবে। এমনই এক ঐশ্বর্যশালী সম্পদ ফুল, আমাদের। সেই ফুল নিয়ে যখন কদর্য ব্যবসা হয়, তখন কিছু আর বলার থাকে না। আমরা শুধু ফুলের সুগন্ধই নিই না, একে ব্যবহার করি নানা আনন্দের সময়। গায়েহলুদ, বাসররাত, তারুণ্যের ভালোবাসা, উৎসব, এমনকি কাউকে শ্রদ্ধা জানাতেও ফুলের আশ্রয় নেই আমরা। এই যে ফুলের বহুমুখী ব্যবহার, তাতে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ফুলের ব্যবসা হয়ে থাকে এ দেশে। এই ব্যবসার শুরুটা করে থাকেন আমাদের কৃষকসমাজ। তারা ফুল ফোটান; কিন্তু সেই ফুল গাছ থেকে নেমে কয়েক হাত বদল হয়ে পৌঁছে ফুলপ্রেমীর কাছে। এই সুযোগে অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে যেমনটা ঘটে, এখানেও তেমন লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে। খুচরা বাজারে ফুলের মূল্য বেড়ে যায় বহুগুণ, কৃষক তার ভাগ পায় না। আর এভাবেই ফুলের বাণিজ্য যত বাড়ছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের রমরমা ততই আরও জমজমাট হচ্ছে।
ফুলের কোনো মৌসুম নেই, এটা সারা বছরের প্রাকৃতিক সম্পদ। তবে এর চাহিদা বেড়ে যায় ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। বিজয় দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বড়দিন, থার্টিফার্স্ট নাইট, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, স্বাধীনতা দিবস-আমাদের জাতীয় জীবনে এসব তৎপর্যপূর্ণ দিনে ফুল হয়ে ওঠে এক অত্যাবশ্যকীয় সঙ্গী। কিন্তু তাতে কৃষকের কী লাভ? তবে কি আমরা ধরে নেব, কৃষকের কাজ শুধু আমাদের খাবারের জোগান দেওয়া, পঞ্চ ইন্দ্রিয় তৃপ্ত করা? আমাদের স্পষ্ট কথা-খোলাবাজারে ফুল যে দামে কেনে ক্রেতা, সেই অনুপাতে কৃষকের পকেটেও ঢুকতে হবে টাকা। ফুল নিয়ে অন্যায় বাণিজ্য হয়, কথাটা শুনতেও খারাপ লাগে। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের কৃষক সমাজের বড় ট্র্যাজেডি হলো, তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাদের এ অসহায়ত্বের সুযোগে অসৎ ব্যবসায়ীরা কোলে টানে ঝোল। এ অবস্থার পরিবর্তন হতে হবে। অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যসহ ফুলেরও ন্যায্যমূল্য পেতে হবে কৃষককে। তাহলেই ফুল ও তার সুগন্ধ সার্থক হবে।
