Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

রাজধানীতে মাদকের ভয়াল থাবা

পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা

Advertisement

Icon

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই ঘটাচ্ছে না, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বস্তির অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-সর্বত্র ঘটেছে মাদকের বিস্তার। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও আইসের মতো মাদক এখন অত্যন্ত সহজলভ্য। এর চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক নির্মূলের মূল দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের নাম এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের বিলাসবহুল বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ৮৪ জনকে আটকের ঘটনা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। জানা যায়, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আড়ালে ওই বাড়িতে নিয়মিত মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টির আসর বসত।

এদিকে গুলশানের কথিত ‘জার্মান ক্লাবে’ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিক্স) চালানো অভিযানে যে ভয়ংকর চিত্র উন্মোচিত হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা জার্মান দূতাবাসের সম্পৃক্ততা ছাড়াই একটি চক্র বছরের পর বছর ধরে অভিজাত এলাকার একটি বিশাল প্লটে অবৈধ মদের বার ও ডিজে পার্টির নামে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। অভিযান চালানোর পর জানা গেছে, শুল্কমুক্ত দোকান থেকে ছদ্মনামে অবৈধ মদের চালান আনা হতো এবং তা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হতো নাইট পার্টিগুলোতে।

প্রশ্ন হলো, যাদের ওপর আইন প্রয়োগ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব অর্পিত, তারাই যদি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করে কিংবা জড়িয়ে পড়ে, তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব হবে? এ ধরনের ঘটনা শুধু পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, গোটা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপরই মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এসব ঘটনা মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ক্ষমতার উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কিংবা দায়িত্বশীল মহলের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত দেয়। যখন অপরাধের সঙ্গে ক্ষমতা বা বিশেষ প্রভাব যুক্ত হয়, তখন অপরাধ দমনই কঠিন হয়ে পড়ে না শুধু, অপরাধীরা পায় এক ধরনের অদৃশ্য প্রশ্রয় ও সুরক্ষা বলয়। মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে শুধু চুনোপুঁটি ব্যবসায়ীদের ধরে দায় সারলে চলবে না; এর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সিন্ডিকেটের কবলে ঢামেক

সিন্ডিকেটের কবলে ঢামেক

রাজধানীতে মাদকের ভয়াল থাবা

রাজধানীতে মাদকের ভয়াল থাবা

সড়ক দুর্ঘটনা কি আমাদের নিয়তি

সড়ক দুর্ঘটনা কি আমাদের নিয়তি

তিন টাকার মাছে ৪৫ টাকার খরচ

তিন টাকার মাছে ৪৫ টাকার খরচ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম