জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে
কার্যকর পদক্ষেপে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্বৃত্তদের দ্বারা জনমনে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে। সোমবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তো আছেই, সুযোগসন্ধানী অপতৎপরতাকারীরাও দেশজুড়ে এক পরিকল্পিত অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত অপশক্তির প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নানাবিধ অপতৎপরতা, ঝটিকা মিছিল, অকারণ ককটেল বিস্ফোরণ এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে পেশাদার অপরাধী ও সন্ত্রাসীচক্র যেভাবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করছে, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ।
সম্প্রতি রাজধানীতে এক সংগীতশিল্পীর ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ এবং পুরান ঢাকার হাজারীবাগে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে হামলা, ভাঙচুর ও সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জামসহ লাখ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা প্রমাণ করছে, অপরাধীরা দিন দিন কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে মামলা প্রত্যাহারের কথা বলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এমন অবস্থায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঢিলেঢালা মনোভাব দেখানো হলে এই পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
আরও আশঙ্কাজনক হলো, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা নিজেদের অবস্থান আড়াল রেখে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। ডার্ক ওয়েব থেকে কেনা ভার্চুয়াল নম্বর এবং ভিপিএন ব্যবহার করে অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নম্বর সংগ্রহ করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং পরিবারকে টার্গেট করার হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকে অকার্যকর করার চক্রান্ত চলছে। বিষয়গুলোকে যে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, তা বলাই বাহুল্য।
সার্বিক পরিস্থিতিতে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বস্তরে সমন্বিত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করি আমরা। এক্ষেত্রে, ডার্ক ওয়েব ও অ্যানক্রিপ্টেড মাধ্যমে পরিচালিত হুমকির উৎস শনাক্ত করতে সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়াতে হবে। এছাড়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বা সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত যে কোনো ধরনের হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার স্বাধীন পরিবেশ দিতে হবে। একইসঙ্গে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে দেওয়া সব ধরনের গুজব ও নাশকতার পরিকল্পনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান আরও বেগবান করা আবশ্যক। ভুলে গেলে চলবে না, জনগণের নিরাপত্তা ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। সরকার সব অপশক্তির বিরুদ্ধে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
