গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা
ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
এআই ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাড়ে চার দশকের বেশি সময় পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান বিএনপি সরকারের উদ্যোগে ফিরতে চলেছে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কাঠামো এবং তৃণমূলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী নানা দায়িত্বের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে গ্রাম সরকার গঠন, সদস্য নির্বাচন ও কার্যক্রমসংক্রান্ত বিধানগুলো চূড়ান্ত হবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। এজন্য খসড়া আইনটির ওপর মতামত চাওয়া হয়েছে।
১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠিত হলেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, আইনি জটিলতা এবং ২০০৫ সালে হাইকোর্ট কর্তৃক আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণার ফলে তা টিকতে পারেনি। নতুন খসড়ায় ইতিবাচক দিক হিসাবে গ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ (সন্ত্রাস, চুরি, মাদক, জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন) এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি তদারকিতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় থাকা অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে হ্যাঁ-না ভোটে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ছোঁয়াও কিছুটা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার কাঠামোর সঙ্গে এর কার্যপরিধির সংঘাত ও পুনরাবৃত্তি নিয়ে। দেশে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ পাঁচটি স্থানীয় সরকার স্তর কার্যকর রয়েছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, নতুন আরেকটি স্তর যোগ না করে বরং বর্তমান কাঠামো ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত করা বেশি জরুরি। তাছাড়া ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক কর্মীদের পুনর্বাসনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা অতীতেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বস্তুত স্থানীয় সরকারের মূল দর্শন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকারকে ধাপে ধাপে ক্ষমতায়িত করার কথা বলছে। সেক্ষেত্রে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। যেহেতু খসড়াটি এখনো জনমতের জন্য উন্মুক্ত, তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত সব মহলের মতামতের গঠনমূলক মূল্যায়ন করা। গ্রাম সরকার যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত না হয়ে প্রকৃত অর্থেই গ্রামীণ জনগণের আত্মনির্ভরতা ও উন্নয়নের হাতিয়ার হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
