বিএনপি পুলিশ ও আ.লীগের সংঘর্ষ : বাসে আগুন ভাঙচুর
রণক্ষেত্র ঢাকার ৪ প্রবেশপথ
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পুলিশসহ ৫ শতাধিক আহত * গ্রেফতার ৭ শতাধিক নেতাকর্মী * ১১ মামলায় আসামি ৫৪৯
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ধোলাইখালে পুলিশের অ্যাকশন -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজপথ। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পালটাপালটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও শনিবার তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশপথগুলো পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।
কোথাও বিএনপি-আওয়ামী লীগ, কোথাও বিএনপি-পুলিশ আবার কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগ-পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। ধাওয়া-পালটাধাওয়া, ইটপাটকেল, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপে এসব এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন।
বাসে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়িসহ ভাঙচুর করা হয় বেশকিছু যানবাহন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় সারা দিনেই রাজধানী থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল পুরো দেশ। ভয়াবহ এ সংঘর্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি দলটির। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক পুলিশও আহত হন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদসহ গ্রেফতার করা হয় সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে। শনিবারের সংঘর্ষে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১১ মামলায় ৫৪৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অতীতের মতোই এসব সংঘর্ষে একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছে। পুলিশের দাবি, বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রথমে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
জনগণের জানমাল রক্ষার্থে তারা আইন অনুযায়ী তাদের সরিয়ে দেয়। বিএনপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা একযোগে হামলা চালিয়েছে। বিএনপি পরিকল্পিতভাবে দেশে ফের অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের।
১২ জুলাই ঢাকায় সমাবেশ করে সরকারের পদত্যাগের একদফা ঘোষণা করে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ২৮ জুলাই নয়াপল্টনের মহাসমাবেশ থেকে শনিবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
আওয়ামী লীগও মাঠে থাকার ঘোষণা দেয়। কিন্তু কোনো দলই কর্মসূচি পালনের জন্য অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেনি। প্রবেশপথে দুদলের অবস্থানের ঘোষণায় নতুন করে দেখা দেয় উত্তেজনা।
কোনো দলকেই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি-রাতে ডিএমপির পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানোর পর এ উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই কর্মসূচি পালনে অনড় থাকে বিএনপি। অন্যদিকে কর্মসূচি পালন না করার ঘোষণা দিলেও প্রবেশপথে সতর্ক পাহারায় থাকার কথা জানায় আওয়ামী লীগ।
শনিবার সকালে রাজধানীর প্রবেশপথগুলো ঘুরে দেখা যায়, যেসব স্পটে বিএনপির অবস্থান নেওয়ার কথা সেখানে আগে থেকেই পুলিশের পাশাপাশি সতর্কাবস্থান নেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাদের প্রায় সবার হাতেই ছিল লাঠি। কারও কারও হাতে রামদাও দেখা যায়। কোনো কোনো প্রবেশপথে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দেন তারা।
এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও সকাল থেকে অবস্থান করেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। কর্মসূচি পালনে কোনো অনুমতি না থাকলেও সড়ক দখল করে শোডাউন করেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কিন্তু কোথাও পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। উলটো কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে হামলায় অংশ নেন তারা।
প্রবেশপথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জলকামান, সাঁজোয়া যানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসব সড়কে অবস্থান নেয়। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও কোথাও তা করতে পারেনি বিএনপি।
ধোলাইখালে পুলিশ-বিএনপি ব্যাপক সংঘর্ষ : বিএনপির কর্মসূচি ছিল নয়াবাজারে। তবে সকাল থেকেই সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশও মোতায়েন করা হয় নয়াবাজারে। এতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখালে অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য জড়ো হতে থাকেন বিএনপির শত শত নেতাকর্মী।
বেলা ১১টার পর ধোলাইখাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। পুলিশের ধাওয়ায় প্রথমে বিএনপি সমর্থকরা পিছু হটলেও, পরে আবারও সংগঠিত হয়। নেতাকর্মীদের একটি অংশ পুলিশকে ধাওয়াও দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ৪৫-৫০ মিনিট ধরে এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে বিএনপিকর্মীরা ইট ছুড়লে পুলিশও পালটা ইট ছুড়ে মারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির ৬ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে হঠাৎ ইটের আঘাতে আহত হন গয়েশ্বর চন্দ্র। এ সময় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান করে। নেতাকর্মীরা একপর্যায়ে গয়েশ্বরকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে থাকেন। এ সময় গয়েশ্বরকে ঘিরে থাকা নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ।
একপর্যায়ে গয়েশ্বর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় পুলিশ লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। বিএনপি নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে।
এছাড়া নয়াবাজার, জনসন রোড, ইলিংশ রোডে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শোডাউন দিতে দেখা গেছে। ঢাকা মহাগনর দক্ষিণ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোডাউন দেন। তবে পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। এদিকে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ধোলাইখাল এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।
রণক্ষেত্র মাতুয়াইল : পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিরআখড়া বাস স্ট্যান্ডের দনিয়া কলেজের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০টা থেকে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাঁজোয়া যান নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন।
তাদের আশপাশে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা সরে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে বাধে সংঘর্ষ।
এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটে। এ সময় তারা পুলিশের দুটি সাঁজোয়া যানে ভাঙচুর চালান। আকস্মিক এমন আক্রমণের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশের মুহুর্মুহু টিয়ার শেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এতে বিএনপির কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংগঠিত হয়ে ফের পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এমনকি রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেন বিএনপিকর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সরকারি দলের লোকজন।
সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকে পড়া অন্তত ৩টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্বদেশ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস আগুনে ধ্বংস হয়। এছাড়া তুরাগ পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা উপস্থিত হয়ে আগুন নেভান। পরে তিশা পরিবহণের অপর একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আতঙ্কিত পথচারীদের অনেকেই দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন নারী, শিশু এবং বৃদ্ধরা।
গাবতলী এলাকা : ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার গাবতলী এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার অনেক আগেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই হানিফ বালুর মাঠে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন।
বেলা ১১টার দিকে গাবতলী খালেক পরিবহণের বাস কাউন্টারের সামনে উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সড়কের এক পাশে অবস্থান নেন। কাছাকাছি দূরত্বে আগে থেকেই অবস্থান ছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। একপর্যায়ে বিএনপির অবস্থানস্থলে আসে পুলিশ। নেতাকর্মীদের সরে যেতে বলে এবং তাদের মাইক কেড়ে নেয়।
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সেখানে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় আওয়ামী লীগকর্মীরা। বেশ কয়েক নেতাকর্মীকে বেধড়ক পেটানো হয়। সাজিদ হোসেন বাবু নামের যুবদলের এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে তার পায়ে পেটানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে রক্ষা করে। এছাড়া শ্যামলীতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়। এ সময় পুলিশের গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ধাওয়ার পর সেখানে আটকা পড়েন আমানসহ বিএনপির কয়েক নেতা। এ সময় আমান উল্লাহ আমানকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন পুলিশ। কিন্তু নিরাপত্তার কথা বলে আমান যেতে চান না। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আমানের বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমান অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
উত্তরায় সংঘর্ষ, প্রিন্স-শরিফুল-মিলন-আমিনুলসহ আহত ৫০ : বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই উত্তরার বিএনএস ভবনের উলটো দিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সরেজমিন দেখা যায়, বেলা ১১টার কিছু পরে বিএনপির নেতাকর্মী বিএনএস সেন্টারের কাছে জড়ো হন।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, গাজীপুর জেলার সভাপতি ফজলুল হক মিলন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিবের আমিনুল হকের নেতৃত্বে স্লোগান দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। হাউজ বিল্ডিং থেকে ও বিভিন্ন অলিগলি থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলে। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে হঠাৎ পরপর তিনটি বিস্ফোরণ হয়। তারপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং ধাওয়া দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা পিছু হটে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন গলিতে ও হাউজ বিল্ডিংয়ের দিকে অবস্থান নেন। সেখান থেকে তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়েন। একই সময় উলটো দিকে আজমপুরের দিক থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় ধারাল অস্ত্র, রড, লাঠি ও পাইপ দেখা যায়। প্রথমে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও ধাওয়া করে। দুপক্ষই (বিএনপি-আওয়ামী লীগ) ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে মূল সড়ক ও আশপাশের অলিগলি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সাধারণ মানুষকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। মূল সড়ক নিয়ন্ত্রণে নেয় আওয়ামী লীগ। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শরিফুল আলম, ফজলুল হক মিলন ও আমিনুল হকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
কয়েকজন পথচারী ও শিক্ষার্থীও আহত হন। আওয়ামী লীগেরও কয়েকজন আহত হন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ফের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া, ৫ জন আটক, আহত ২০, ৪২২
জনকে আসামি করে মামলা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড এলাকায় অবস্থানের চেষ্টাকালে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী ইব্রাহীম খলিল শপিং কমপ্লেক্স ও প্রিয়ম নিবাস এলাকায়। এতে পুলিশ, পথচারী ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। অপরদিকে পুলিশ প্রায় অর্ধশতাধিক গুলি ছোড়ে বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা।
সংঘর্ষ চলার একপর্যায়ে সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ার প্রধান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল সাগর প্রধানসহ ৫ জনকে আটক করে পুলিশ।
সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন থানার উপপরিদর্শক মমিনুল হক।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
