রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ১০ জনের মৃত্যু
Advertisement
কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনসহ ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয়। বাকিরা ‘রোহিঙ্গা’ বলে জানা গেছে।
ভারি বর্ষণের কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উখিয়ার ১, ৮, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। এর মধ্যে ১ নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৮ নম্বর ক্যাম্পে ১ জন, ৯ নম্বর ক্যাম্পে ৩ জন, ১০ নম্বর ক্যাম্পে ৪ জন ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যারা মারা গেছেন, তারা হলেন-১ নম্বর ক্যাম্পে এফ-৫ ব্লকের সুলতান আহমদের মেয়ে পুতনী বেগম (৩৪), ৮ নম্বর ক্যাম্পের বি-৮২ ব্লকের মো. হারেজের ছেলে মো. হারেজ (৪)। ৯ নম্বর ক্যাম্পের চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার আলী জহুরের ছেলে হোসেন আহমেদ (৫০), ওই ক্যাম্পের আই-৪ ব্লকের আলী জোহারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম (১৮) ও আই-৯ ব্লকের মো. জামালের ছেলে মো. সালমান (৩)। ১০ নম্বর ক্যাম্পে আবু মেহের (২৫), শাহানা (২২), আবুল কালাম (৫০) ও সেলিমা খাতুন (৪৫) এবং ১৪ নম্বর ক্যাম্পে উখিয়ার থাইংখালী এলাকার শাহ আলমের ছেলে আব্দুল করিম (১২)।
মিজানুর রহমান জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে ১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মারা যান একজন। সকাল ৬টায় ১০ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক সি ৩-এ পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার রাত ৩টায় ৯ নম্বর ক্যাম্পের আই ৪-এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওখানে উদ্ধার করা হয় ৩ জনের লাশ। ভোর ৪টার দিকে ৮ ও ১৪ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে মারা যান ২ জন। এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার হোসেন আহমেদ নানা কারণে ক্যাম্পে অবস্থান করে মারা যান। আর ১৪ নম্বর ক্যাম্পে মারা যাওয়া আব্দুল করিম ক্যাম্পের পাশেই তার বাড়ি।
উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও কেউ ঝুঁকিপূর্ণ আছে কিনা দেখা হচ্ছে। তাদেরও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপসহকারী পরিচালক তোফায়েল আহমদ জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। কক্সবাজার গতকাল থেকে টানা ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্যাম্পের অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশই রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে। সেখানে বিভিন্ন পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করেছে রোহিঙ্গারা।
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার-টেকনাফে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানি আর পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, ডুবে গেছে ঘরবাড়িসহ পোলট্রি খামার, মৎস্যঘের, লবণের গোলা ও মুজিববর্ষের ঘরও। ভেঙে গেছে রাস্তাঘাট। তবে এবার উখিয়াতে ছাড়া টেকনাফের কোথাও পাহাড় ধসে কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি। অতিরিক্ত পানির কারণে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক গাড়ি গ্রামের ছোট ছোট রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, পানিবন্দি অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র এবং পাশের আত্মী য়স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় তথ্য সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলায় আনুমানিক ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। লবণের গোলা, মৎস্যঘের ও পোলট্রি খামারিরা বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
এদের মধ্যে বেশিরভাগ হ্নীলা ইউনিয়নে। অপরদিকে উপজেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, টেকনাফে ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
টেকনাফের সীমান্ত সড়কের নাফ নদীমুখী কয়েকটি স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় যথাসময়ে পানি প্রবাহিত হতে না পারায় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, আমার এলাকায় প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি আছেন।
