প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব
চার্লস ব্যাবেজ
Advertisement
তানভীর তানিম
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিংশ শতাব্দীতে একের পর এক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ঘোর কাটতে না কাটতেই হাজির হলো এক বিশেষ যন্ত্র। যার মাধ্যমে যে কোনো জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান এক তুড়িতেই করা সম্ভব। বর্তমানে এমন কোনো কাজ নেই, যা এটি দ্বারা করা অসম্ভব। বলছি আশ্চর্য জাদুকরী যন্ত্র কম্পিউটারের কথা। আর যন্ত্রটির স্রষ্টা ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ। ১৮ অক্টোবর ছিল এ মহান ব্যক্তিত্বের ১৫০তম তিরোধান দিবস। আজকের আয়োজনে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবককে নিয়ে লিখেছেন-তানভীর তানিম
জন্ম : চার্লস ব্যাবেজ ১৭৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর লন্ডনে (খুব সম্ভবত) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন ব্যাংকার। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি অন্যতম।
পরিচয় : ব্যাবেজ ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ, মৌলিক ও উদ্ভাবনী চিন্তাবিদ। তবে কম্পিউটারের জনক হিসাবে তিনি সমধিক পরিচিত।
শিক্ষাজীবন : ছোটবেলায় ব্যাবেজ প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। এ কারণে বাড়ির গৃহ পরিবেশেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। ১৮১০ সালে ভর্তি হন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর পরই মূলত তিনি গণিতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
কর্মজীবন : স্নাতক শেষের পর ব্যাবেজ রয়্যাল ইনস্টিটিউশনে ক্যালকুলাসের লেকচারার হিসাবে নিয়োগ পান। এর দুই বছরের মাথায় রয়্যাল সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৮২০ সালে ব্যাবেজ তার কেমব্রিজের বন্ধুদের সঙ্গে মিলে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি গঠন করেন। সর্বশেষ ১৮২৮ থেকে ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত কেমব্রিজে গণিতের লুকাসিয়ান অধ্যাপক ছিলেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন : ২৫ জুলাই ১৮১৪ সালে ব্যাবেজ জর্জিয়া হোয়াইটমোরের সঙ্গে সেন্ট মাইকেল চার্চ টিনব্রিজ, ডেভুনে বিয়ে করেন। তাদের আটটি সন্তান ছিল। এর মধ্যে মাত্র চারটি সন্তান বেঞ্জামিন হার্সেল, জর্জিয়ানা হোয়াইটমোর, ডগল্ড ব্রোমহেড এবং হেনরি প্রিভোস্ট শৈশবে বেঁচে ছিলেন।
ব্যাবেজের কর্মযজ্ঞ : ১৮২০ এর দশকে ব্যাবেজ তার ‘ডিফারেন্স ইঞ্জিন’ নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। এটি ছিল এমন একটি যন্ত্র, যা গাণিতিক গণনা করতে পারে। শুরুতে ইঞ্জিনটির ছয় চাকার একটি মডেল নির্মাণ করা হয় এবং প্রদর্শনীর জন্য জনসম্মুখে রাখা হয়। এরপর তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন-২ এর জন্য একটি বড় ও উন্নত মেশিন তৈরির পরিকল্পনা করেন। পাশাপাশি জটিল বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিন নামে আরও একটি উদ্ভাবন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। যার কাজ ছিল পাঞ্চ কার্ড ব্যবহার করে যে কোনো গাণিতিক গণনা সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, অর্থের অভাবে ব্যাবেজ তার জীবদ্দশায় ডিফারেন্স ইঞ্জিন-২ এর কাজ শেষ করতে না পারলেও পরবর্তীতে অ্যাডা লাভলেস এ ধরনের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের কাজ সম্পন্ন করেন।
অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদান : দর্শনশাস্ত্র ও কোড-ব্রেকিং এর ক্ষেত্রেও ব্যাবেজের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ বিজ্ঞানের সংস্কারের জন্যও প্রচারণা চালিয়েছেন।
খেতাব প্রত্যাখ্যান : নাইটহুড এবং ব্যারনেটের খেতাব উভয়ই ব্যাবেজ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
মৃত্যু : ১৮৭১ সালের ১৮ অক্টোবর লন্ডনে নিজ বাড়িতে পরলোকগমন করেন। তাকে লন্ডনের কেন্সাল গ্রিন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
