একজোট গুগল-মেটা-টিকটক
শিশু সুরক্ষা আইনে আপত্তি
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি কমাতে ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইন বাস্তবায়ন ঠেকাতে একজোট হয়েছে প্রযুক্তি বিশ্বের তিন জায়ান্ট গুগল, মেটা ও টিকটক। ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়, এমন বিভিন্ন ফিচার নিষিদ্ধ করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, আইনটি অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থি।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকরের কথা রয়েছে। তবে আদালত স্থগিতাদেশ দিলে কিংবা আইনটি বাতিল হলে এর বাস্তবায়ন আটকে যাবে। এ লক্ষ্যেই বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে গুগল, মেটা ও টিকটক। গুগল স্যান হোসে, মেটা স্যান ফ্রান্সিসকো এবং টিকটক লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ‘অ্যাসেম্বলি বিল ১৭০৯’ নামের আইনটিতে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে উৎসাহিত করে, এমন ফিচার নিষিদ্ধের প্রস্তাব রয়েছে। এর আওতায় ব্যক্তিগত পছন্দ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে কনটেন্ট দেখানোর অ্যালগরিদম এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক ভিডিও চালু রাখার ‘অটোপ্লে’ সুবিধা বন্ধ করতে হবে। শুধু নতুন ফিচার নিষিদ্ধ নয়, এসব সুবিধা থাকা শিশুদের পুরোনো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, আইনটি কার্যকর হলে কোন ধরনের কনটেন্ট শিশুদের সামনে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়া হবে। এতে মা-বাবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন হবে। তাদের মতে, সন্তানদের জন্য কোন অনলাইন সেবা উপযোগী, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই সবচেয়ে উপযুক্ত।
মামলাগুলোতে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত বাকস্বাধীনতা এবং ফেডারেল কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্টের ২৩০ ধারার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এ ধারায় ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নির্দিষ্ট আইনি দায় থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদার ভাষ্য, অতিরিক্ত বিস্তৃত এ আইন শিশুদের জন্য বয়সোপযোগী ভিডিও খুঁজে পাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করবে। মেটার দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট বাছাই ও প্রদর্শনের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করবে আইনটি। অন্যদিকে টিকটকের বক্তব্য, কোনো কনটেন্ট আইনপ্রণেতাদের কাছে ক্ষতিকর মনে হলেই তরুণদের সুরক্ষার অজুহাতে বাকস্বাধীনতা সীমিত করা যায় না।
তবে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নে অনড় ক্যালিফোর্নিয়া। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলে স্বাক্ষরের সময় বলেছিলেন, প্রযুক্তি নিয়ে যে কোনো আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পেতে হবে। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও জানিয়েছে, আইনটির সুরক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মামলার নথি পর্যালোচনা করছে।
আইনটির সমালোচনা করেছে ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনও। তাদের মতে, এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বাকস্বাধীনতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যেই এ আইনি লড়াই শুরু হলো।
